• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪১ দুপুর

মনিরুল: এ সপ্তাহেই আবরার হত্যার চার্জশিট

  • প্রকাশিত ০৪:৩৮ বিকেল নভেম্বর ১, ২০১৯
মনিরুল ইসলাম
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। ফাইল ছবি।

'মেধাবী মাত্রই আমরা মূল্যবোধ সম্পন্ন, বিবেক সম্পন্ন বলতে পারি না'

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার চার্জশিট চলতি সপ্তাহেই (নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) হলে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত "আবরার হত্যাকাণ্ডের জন্য ছাত্র রাজনীতি না মূল্যবোধের অবক্ষয়, কোনটি দায়ী" শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন বলে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, "বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের কার কী ভূমিকা ছিল তা নিরুপণ করা হচ্ছে। এই মামলার চার্জশিট নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই দাখিল করা হবে।"

এসময় মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, "কোনও ছাত্র সংগঠন অন্য ছাত্র বা সাধারণ কাউকে হত্যা বা মারধরের নির্দেশ দেয় না। বরং রাজনীতির প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে কেউ কেউ নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে থাকে। এটা রাজনীতির দায় নয়। বরং ওই সব অপরাধী দুর্বৃত্তের দায়।"

"আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় যাই হোক মূলত তারা দুর্বৃত্ত ও অপরাধী। রাজনীতি থেকেও তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা এই মামলার চার্জশিট নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই দাখিল করবো। সেখানে প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্ট হিসেবে সিটিটিভি ফুজেটও দাখিল করা হবে", যোগ করেন তিনি।

এসময় আবরার হত্যার দিন রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "ঘটনার রাতে টহল পুলিশের দল কোনও মাধ্যমে তথ্য পেয়ে সেখানে যায়। কিন্তু অনুমতি ছাড়া কোনও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করা যায় না এমন একটা নিয়ম ছিল। কিন্তু পুলিশ যদি ওই রাতে সঠিক তথ্যটি পেতো যে আবরার নামে কোনও ছাত্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই পুলিশ ওই নিয়মকে অমান্য করে ভেতরে প্রবেশ করতো। কারণ তখন নিয়মের অপরাধ ঠেকানো বেশি জরুরি।"

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, "মেধাবী মাত্রই আমরা মূল্যবোধ সম্পন্ন, বিবেক সম্পন্ন বলতে পারি না। কাগুজে নম্বরের ওপর ভিত্তি করে অনেককে আমরা মেধাবী আখ্যা দিয়ে থাকি। কিন্তু প্রকৃত মেধাবী তারাই যাদের মূল্যবোধ রয়েছে, দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি ও পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। আর এই মূল্যবোধ পর্যায়ক্রমে তৈরি হতে থাকে।"

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে ছায়া বিতর্কে অংশ নেন তেজগাঁও কলেজ ও সরকারি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।