• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪ সকাল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সুন্দরবন এখন সবার জন্য নিরাপদ

  • প্রকাশিত ০৫:১৭ সন্ধ্যা নভেম্বর ১, ২০১৯
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল
শুক্রবার বাগেরহাট স্টেডিয়ামে সুন্দরবনকে “দস্যুমুক্ত” ঘোষণার প্রথম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ঢাকা ট্রিবিউন

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে দস্যুরা এখন বাড়িতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে। পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বনদস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সুন্দরবন এখন সবার জন্য নিরাপদ। যে কোনো মূল্যে পর্যটন সম্ভাবনাময় সুন্দরবনকে আমরা নিরাপদ রাখবো। কেউ দস্যুবৃত্তি করতে চাইলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। দস্যুবৃত্তির নির্দেশদাতাদেরও বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকালে বাগেরহাট স্টেডিয়ামে সুন্দরবনকে “দস্যুমুক্ত” ঘোষণার প্রথম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আত্মসমর্পণ করা বনদস্যুদের খোঁজ খবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুন ও ধর্ষণ মামলা বাদে পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে দস্যুরা এখন বাড়িতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে। পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারে। এতে তাদের স্বজনরাও খুশি।

অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামছুল হক টুকু, কমিটির সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডা. মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ নাসের তন্ময়, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা বনদস্যুদের মাঝে শুক্রবার বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, একসময় সুন্দরবন দাঁপিয়ে বেড়ানো বনদস্যু বাহিনীগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম র‌্যাবের আহবানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণে এগিয়ে আসেন মাস্টার বাহিনী প্রধান  মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টারসহ ৯ বনদস্যু। ২০১৫ সালের ৩১ মে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের ফুয়েল জেটিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। 

এরপর পর্যায়ক্রমে বনদস্যু মানজার বাহিনী, মজিদ বাহিনী, বড় ভাই বাহিনী, ভাই-ভাই বাহিনী, সুমন বাহিনী, দাদা ভাই বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আমির বাহিনী, মুন্না বাহিনী, ছোট শামছু বাহিনী, মানজু বাহিনী, সূর্য বাহিনীসহ ২৬টি বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে। সর্বশেষ গত বছরের ১ নভেম্বর বাগেরহাট স্টেডিয়ামে সত্তার বাহিনী, শরিফ বাহিনী, সিদ্দিক বাহিনী, আল-আমিন বাহিনী, আনারুল বাহিনী ও তৈয়ব বাহিনীর বনদস্যুরা আত্মসমর্পণ করেন। 

আত্মসমর্পণ করা ৩২টি বাহিনীর প্রধানসহ সর্বমোট ৩২৮ বনদস্যু সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।

গত বছরের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর ম্যানগ্রোভ এই বনে বইছে শান্তির সুবাতাস। বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড এই বনের জীববৈচিত্র্য। বন্ধ হয়েছে জেলে-বনজীবীদের মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ ও চোরাকারবারীদের চাহিদানুযায়ী হরিণ, বাঘ-কুমির শিকার ও পাচার।