• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২ রাত

অধ্যক্ষকে তুলে নিয়ে পুকুরে ফেলে দিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

  • প্রকাশিত ০৯:৩৭ রাত নভেম্বর ২, ২০১৯
রাজশাহী
রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ জানান, বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের নেতারা অন্যায় দাবি নিয়ে আমার কাছে আসতো। সেসব দাবি না মানায় তারা আমার উপর ক্ষুদ্ধ ছিল।

রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদকে নিজ কার্যালয়ের সামনে থেকে তুলে নিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরের পুকুরে ফেলে দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার (০২ নভেম্বর) দুপুরে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। তবে সাঁতার জানার কারণে তিনি রক্ষা পান।

অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ জানান, বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের নেতারা অন্যায় দাবি নিয়ে আমার কাছে আসতো। সেসব দাবি না মানায় তারা আমার উপর ক্ষুদ্ধ ছিল। কলেজে সপ্তম সেমিস্টারের ফরম পূরণ চলছিলো। ক্লাশে উপস্থিতি কম থাকায় দুইজন ছাত্রের সেমিস্টারের ফরম পুরণ হয়নি। সেই দুই ছাত্রের ফরম পুরণ করানোর জন্য সকালে তারা আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু আমি বিভাগীয় প্রধানের কাছে যেতে বলি। এতে তারা আমার উপর ক্ষুদ্ধ হন। দুপুরে নামাজ পড়ে অফিসে যাওয়ার সময় তারা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। এরপর তারা পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দুই-তিনজনের মুখ বাধা ছিল। 

এ বিষয়ে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. গোলাম মোস্তফা জানান, মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর আমি পলিটেকনিক ইনস্টিউটিউটে গিয়েছিলাম। দুইজন ছাত্রের পরীক্ষার ফরম পূরণ না করানোর কারণে কয়েকজন ছাত্র গিয়ে সকালে অধ্যক্ষকে পূরণ করার জন্য বলে। অধ্যক্ষ ফরম পূরণ না করায় দুপুরের দিকে নামাজ পড়ে আসার সময় ক্যাম্পাসের পুকুরের সামেনে দাঁড় করিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এর মধ্যে একজনের নাম মেহেদি বলে শুনেছি।

রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটটির ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রিমেল বলেন, অধ্যক্ষ স্যার অফিসে বা বাসায় আসার সময় বেশ কিছু শিক্ষার্থী তাকে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। 


আরও পড়ুন - অধ্যক্ষকে তুলে নিয়ে পুকুরে ফেলে দিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা


ছাত্রলীগের কেউ ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী হাসান রিমেল বলেন, রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভ ছিল। এছাড়া যদি ছাত্রলীগের একের অধিক নেতাকর্মী থেকে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মামলা দায়ের

এ ঘটনায় শনিবার (০২ নভেম্বর) রাত ৯টায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০জনকে আসামি করে অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ নিজেই বাদী হয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. গোলাম মোস্তফা।

মামলায় আসামিরা হলেন, কম্পিউটার বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও ইন্সটিটিউটের ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভ, ইলেকট্রনিক্স ৫ম পর্বের শিক্ষার্থী মুরাদ, পাওয়ার বিভাগের সাবেক ছাত্র শান্ত, ইলেকট্রনিক্স বিভাগের সাবেক ছাত্র বনি, মেকাট্রনিক্স বিভাগের সাবেক ছাত্র হাসিবুল ইসলাম শান্ত, ইলেক্ট্রো-মেডিক্যাল বিভাগের সাবেক ছাত্র সালমান টনি, একই বিভাগের ৭ম পর্বের ছাত্র হাবিবুল ও কম্পিউটার বিভাগের সাবেক ছাত্র মারুফ। এঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সনাক্ত করেছেন শিক্ষকরা।

 শিক্ষকরা জানায়, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদের কয়েকজনের মুখ রুমাল বাঁধা ছিলো। এ ঘটনার পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। 

ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শিক্ষকদের দাবি, রাতের মধ্যেই অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হলে রবিবার (৩ নভেম্বর) থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেবেন তারা।

 এদিকে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ। 

মহানগর ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক ফজলে রাব্বির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন স্যারকে কিছু দুষ্কৃতিকারীরা শারীরিকভাবে লাঞ্চিত ও উনার সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়। আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজিব এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ কুমার জয়, প্রনব সরকার, জহুরুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন রুবেল, যুগ্ম সম্পাদক তাসকিন পারভেজ সাতিল ও মিলন কুমার সরকারকে উক্ত ঘটনার তদন্তভার অর্পণ করেছি। ছয় সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হযেছে। যদি ঘটনায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী জড়িত থাকে। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।