• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৯ দুপুর

বন্দিদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কুষ্টিয়া কারাগার

  • প্রকাশিত ০৫:৪৯ সন্ধ্যা নভেম্বর ৩, ২০১৯
কুষ্টিয়া জেলা কারাগার
অক্ষরজ্ঞানহীন কারাবন্দীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করেছে কুষ্টিয়া জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। ঢাকা ট্রিবিউন

বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কয়েদিদের স্বাবলম্বী করে তোলারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে তারা জেল থেকে বেরিয়ে আবার অপরাধে না জড়িয়ে পড়ে

অক্ষরজ্ঞানহীন কারাবন্দীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করেছে কুষ্টিয়া জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। এখন এই কারাগারে কোনো বন্দি গেলে নিবন্ধন খাতায় টিপসই দেওয়ার সুযোগ নেই। তার জন্য নাম সই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালে জেল সুপার জাকের হোসেন ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেন। বন্দিদের মধ্য থেকে ৫জন শিক্ষিত কয়েদীদের নিয়ে শিক্ষক প্যানেল গঠন করেন তিনি। তারা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত নিরক্ষর বন্দিদের ক্লাস নেন।

এই উদ্যোগের আওতায় ২০১৭ সালে ৪২০ জনকে স্বাক্ষরজ্ঞান শিক্ষা দেয়া হয়। এছাড়াও ২০১৮ সালে ১ হাজার ৪৬৩ জন করাবন্দিকে স্বাক্ষরজ্ঞান শিক্ষা দেয়া হয়।   আর চলতি বছরে ৭৮৫ জন কয়েদি নিয়মিত ক্লাস করছেন।

তবে কেবল প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নয়, এখানে বন্দিদের পবিত্র কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষারও ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এর জন্য জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দু'জন প্রশিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন বন্দি তাদেরকে এই কাজে সহযোগিতা করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কয়েদিদের স্বাবলম্বী করে তোলারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন মাস মেয়াদি ইলেকট্রিক ওয়্যারিং, ছয় মাস মেয়াদি টিভি-ফ্রিজ মেরামত ও তাঁত প্রশিক্ষণ। এখানকার তাঁত বিভাগে দুটি যান্ত্রিক তাঁত রয়েছে। এখান থেকে উৎপাদিত হয় কয়েদিদের পোশাক, তোয়ালে ও লুঙ্গি। এই সব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন কয়েদী বন্দিজীবন শেষে অপরাধে না জড়িয়ে সৎপথে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া গ্রামের  আবু বক্করের ছেলে হিরো (২৩) জানান, তিনি কারাগার থেকে হাউজ ওয়ারিংয়ের কাজ শেখেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে হয়ে নিজ এলাকায় দোকান দিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন তিনি।  

কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার মাসুম বিল্লার ছেলে তুষার ইমরান (২১) জানান, তিনি কারাগার থেকে হাউজ ওয়ারিং কাজ শিখে জামিন পেয়ে নিজেই দোকান দিয়ে বেকারত্ব দুর করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের সংসার এখন খুবই ভালোভাবে চলছে। 

কলম নামে এক হাজতি বলেন, "আমি নিরক্ষর ছিলাম। অপরাধ করে কারাগারে এসে সরকারের মহত উদ্যোগে আমি অক্ষর জ্ঞান পেয়েছি। আমি এখন পড়তে লিখতে ও নাম স্বাক্ষর করতে পারি। এখান থেকে ছাড়া পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।"