• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৬ বিকেল

প্রধানমন্ত্রী: বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতারা একদিন চিহ্নিত হবে

  • প্রকাশিত ০৮:৩৯ রাত নভেম্বর ৩, ২০১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফোকাস বাংলা

'এই দেশে আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে দেয়া হবে না'

ভবিষ্যতে কেউ একজন অবশ্যই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসল ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার (৩ নভেম্বর) বিকালে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, "আমরা হয়তো এই ষড়যন্ত্রকারীদের ধরতে সক্ষম নাও হতে পারি। তবে আমরা চেষ্টা করবো। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। অদূর ভবিষ্যতে কেউ একজন অবশ্যই ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও ৩ নভেম্বর চার নেতা হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের ধরবে।"

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। এটি বৃথা যায়নি, ভবিষ্যতেও কেউ এটিকে ব্যর্থ করতে পারবে না। রাজাকার, খুনি, আল-বদর, আল-শামস, ১৯৭৫ সালের খুনি এবং তাদের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকরা বাংলাদেশকে আবারও তাদের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে না।"

"এ জন্য বাংলাদেশের জনগণকে সেভাবে ভাবতে হবে। এই দেশে আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে দেয়া হবে না। উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের গতি অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের অবশ্যই সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে," যোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, "১৫ই আগস্ট হত্যার পরে বলা হয় যে একটি পরিবারকে ধ্বংস করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তবে ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের পরে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক ছিল এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের সাথে সাথে স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রতিশোধ নিতে এটি করেছিল। কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নেতাদের এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে প্রস্তুত করেছিলেন, স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করেছিলেন এবং চার জাতীয় নেতা দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ওই পথ অবলম্বন করেছিলেন।"

"বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। তারা পাকিস্তানি সহযোগিদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং ১৯৭৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারের নানা পদে বসিয়েছে", যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম, আব্দুল মতিন খসরু, সাহারা খাতুন, তোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আনোয়ার হোসেন, একেএম রহমতুল্লাহ, সাদেক খান ও শাহী আলম মুরাদ এবং লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হক।