• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৩ রাত

‘পুলিশ হেফাজতে’ চোখ হারানো শাহজালালের ২ বছরের জেল

  • প্রকাশিত ১০:৪৭ রাত নভেম্বর ৪, ২০১৯
খুলনা শাহজালাল
পুলিশি নির্যাতনে চোখ হারানোর অভিযোগ করে খুলনার যুবক শাহজালালের সংবাদ সম্মেলন ফাইল ছবি/ইউএনবি

শাহজালালের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলের চোখ নিলো, ছেলেকে অন্ধ বানালো, এবার তাকে জেলেও ঢোকালো। গরিবের ওপর এমন অত্যাচার আল্লাহ সহ্য করবেন না’

২০১৭ সালে ‘‘ছিনতাইয়ের অভিযোগে’’ তুলে নেওয়ার পর ‘‘পুলিশ হেফাজতে’’ চোখ উপড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন খুলনার যুবক শাহজালাল। এর আগে তার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা করেছিলেন সুমা আক্তার নামে এক নারী। সেই মামলায় শাহজালালকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) খুলনা মহানগর হাকিম আদালত-১ (দ্রুত বিচার) এর বিচারক মো. আমিরুল ইসলাম এ রায় দেন। রায়ের পর শাহজালালকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদেশের পর শাহজালালের আইনজীবী নুরুল হক বলেন, ‘‘ছিনতাই মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন শাহজালাল। তার কাছ থেকে কিছু উদ্ধার করা যায়নি। তারপরও তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।’’

প্রভাবিত হয়ে এ রায় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী।

শাহজালালের বাবা জাকির হোসেন বলেন, ‘‘সকাল থেকেই পুলিশের লোকজন আদালত এলাকায় অবস্থান নেন। তারা কয়েকবার আমাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা কোনো কথা বলিনি। আমার ছেলের চোখ নিলো, ছেলেকে অন্ধ বানালো, এবার তাকে জেলেও ঢোকালো। গরিবের ওপর এমন অত্যাচার আল্লাহ সহ্য করবেন না।’’

এদিকে, পুলিশি নির্যাতনের বিষয়ে শাহজালালের মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই রাতে শাহজালালকে থানা হাজতে রেখে ৪০ হাজার টাকার জন্য প্রথম দফায় নির্যাতন চালায় পুলিশ। এ সময় তার হাত জখম হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের লোকজন শাহজালালকে গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন ১৯ জুলাই শাহজালালকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার পরিবারের লোকজন হাসপাতালের বারান্দায় তাকে দুই চোখ উপড়ানো অবস্থায় দেখতে পান।

এ ঘটনায় শাহজালালের বাবা জাকির হোসেন বাদী হয়ে খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

তবে থানার তৎকালীন ওসি নাসিম খানের দাবি, ‘‘অভিযোগ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শাহজালাল একজন ছিনতাইকারী। ছিনতাই করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে। তখন স্থানীয় জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। সেখানে শাহজালাল চোখ হারায়। মামলা থেকে বাঁচতে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে শাহজালাল।’’

কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সেই রাতে ওই এলাকায় ছিনতাই ও মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

কথিত ওই ছিনতাইয়ের ঘটনায় সুমা আক্তার নামে এক নারী মামলা করেন। মামলার নম্বর-৩৪। বিষয়টির তদন্ত করে একই বছরের ২৯ জুলাই এসআই মো. মিজানুর রহমান আদালতে শাহজালালকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন।