• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২ রাত

বাড়ি ভাড়া ভোগান্তি: আইন মানছেন বাসা মালিকরা?

  • প্রকাশিত ১১:৪৯ সকাল নভেম্বর ৫, ২০১৯
ভাড়া
ছবি : সৌজন্যে

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বিধান

বাসা ভাড়া দেওয়া ও নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানে রয়েছে সুনির্দিষ্ট আইন। অধিকাংশ ভাড়াটিয়া ও বাসা মালিক আইনটি সম্পর্কে শুনলেও, সেটির বিষয়ে পূর্ণ ধারণা নেই। আবার আইনটি জানলেও তা মেনে চলায় রয়েছে গাফিলতি।  "বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১" ভাড়াটিয়া ও বাসা মালিক দু'পক্ষের জন্য হলেও, সেটি না মানায় বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের। আর এই প্রবণতা রাজধানী ঢাকাতেই বেশি। 

ঢাকায় "বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১" না মানায় বাসা মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অহরহ। মাথা গোঁজার ঠাই এবং বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার খাতিরে ভাড়াটিয়ারা মেনে নিচ্ছেন মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা। তাদের খামখেয়ালি বিভিন্ন নিয়মের জেরে ভাড়াটিয়াদের মাসিক আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে আবাসন খরচে। 

বাসা ভাড়ার অগ্রিম

ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই ভাড়াটিয়াদের একটি বড় অংকের টাকা অগ্রিম করতে হয়। এই অগ্রিমের পরিমাণ কতোটা হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে আইনে। তবে আইনের তোয়াক্কা না করে রাজধানীতে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন মাসের ভাড়া অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১ হাজার ৫০০ স্কয়ার ফুটের একটি বাসার ভাড়া ৩০ হাজার টাকা হলে, অগ্রিম দিতে হয় ৯০ হাজার টাকা। এলাকাভেদে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছয় মাসের ভাড়া পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হয়। 

তবে "বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১"এর ১০ ধারায় বলা হয়েছে বাসা মালিকরা সর্বোচ্চ এক মাসের ভাড়া অগ্রিম নিতে পারবেন। এর ব্যতিক্রম ঘটলে জরিমানা হতে পারে ২ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে তা বাড়ানোও হতে পারে।  

ভাড়া বৃদ্ধি

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সংবিধানে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বিধান। আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, বড় কোনো ধরনের নির্মাণকাজ বা পরিবর্তন আনা ছাড়া বাসা মালিক দুই বছরের মধ্যে মূল ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারবেন না। এক্ষেত্রেও হচ্ছে অনিয়ম। দেখা গেছে রাজধানীতে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ২০০ শতাংশ। 

বাসা মালিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে এই হার অনেক কম হতো। আইনে বলা হয়েছে সর্বনিম্ন দুই বছর পর পর ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে, আর তা পূর্বের ভাড়ার ১০ শতাংশের বেশি হবে না। 

রক্ষণাবেক্ষণ খরচ

বাসার রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সার্ভিস চার্জের ক্ষেত্রেও রয়েছে অসঙ্গতি। দেখা গেছে, রাজধানীর বাসা মালিকরা পুরোটা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ চাপিয়ে দিচ্ছেন ভাড়াটিয়াদের ওপর। অথচ আইন অনুযায়ী বিষয়টি হওয়ার কথা ছিল ভিন্ন। "বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১"এর ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ভবনে পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহ সংশ্লিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের খরচ বহন করবেন মালিকপক্ষ। কিন্তু আইন না মানায় প্রতি মাসে ভাড়াটিয়াদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।  

বাসা ভাড়ার চুক্তি

বাসা মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সমস্যার সমাধান সম্ভব-যদি দু'পক্ষের মধ্যে চুক্তি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী যে কোনো পক্ষ প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। চুক্তিতে ভাড়া, ভাড়া বৃদ্ধির সময় ও শতকরা হার, দুই পক্ষের দায়িত্ব, বাসা ছাড়ার সময় ও নোটিশ এবং অন্য নীতিমালাগুলো পরিষ্কার থাকলে তা মালিক, ভাড়াটিয়া ও বাসভবন তিনটির জন্যই সুবিধাজনক। আর এই চুক্তিতে আইনের প্রতিফলন না থাকলে ভাড়াটিয়াদের ভোগান্তি কমবে না। আর এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও সক্রিয় হতে হবে।   

ভাড়াপ্রাপ্তির রশিদ 

বাসা ভাড়াপ্রাপ্তির রশিদের ক্ষেত্রেও অনেক ক্ষেত্রে আইন মানা হয় না। আইন অনুযায়ী ভাড়া প্রদানের আগে বাসা মালিক বাসা ভাড়া ও অন্যান্য খরচসহ একটি রশিদ দিবেন ভাড়াটিয়াকে। ভাড়ার অর্থ পরিশোধের পর সেই রশিদে ভাড়াটিয়া ও মালিক দুই পক্ষ স্বাক্ষর করবেন। এতে করে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দুপক্ষেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।   

তবে গত কয়েক বছর ধরে চিত্রপটে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। আইনটি সম্পর্কে ধীরে ধীরে সচেতন হচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা। আইন অনুযায়ী নিজেদের অধিকার সম্পর্কে এই সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে রাজধানীসহ সারা দেশে আবাসন ভাড়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমে আসবে।