• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৬ দুপুর

দু’বছর ধরে হাসপাতালই ফেলে যাওয়া শিশুটির বাড়িঘর

  • প্রকাশিত ০১:৪৭ দুপুর নভেম্বর ৬, ২০১৯
শিশু
প্রায় দু বছর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয় আয়েশা। ছবি: সংগৃহীত

‘দুই বছর আগে ঢামেকের জরুরি বিভাগে ভর্তির সময় নাম বলা ছাড়া কোনো কথাই বলতে পারছিলো না আয়েশা, হাঁটতেও পারছিলো না, এমনকি পরিবারের কেউও তার সঙ্গে ছিল না’

প্রায় দু বছর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কাছে একটি শিশুকে পেয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি করান সেখানকার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া।

শিশুটির সাথে কেউ ছিলো না এবং সে ঠিকমতো কথা বলতে কিংবা হাঁটতে পারছিলো না। তারপর থেকে ওই হাসপাতালের শিশু বিভাগে ২০৭ নম্বর ওয়ার্ডে আছে শিশুটি, যে অস্ফুট উচ্চারণে তার নাম জানিয়েছিলো আয়েশা।

এরপর দু’বছরে পরিবার বা স্বজন কেউ তার কোনো খোঁজ নিতে আসেনি। তবে এরমধ্যেই চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তাসহ পরিচিত অপরিচিত অনেকেই পরিণত হয়েছে তার স্বজনে।

তার পুরো দায়িত্বই নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিন্তু আইনি অভিভাবক না থাকায় এখন আটকে গেছে তার চিকিৎসার কিছু বিষয়।

অন্যদিকে তার আইনি অভিভাবকত্ব পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে নিবেদন নামের একটি অলাভজনক সংস্থা।

সংস্থাটির সভাপতি মারজানা সাফাত বলছেন, “তারা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আসা এমন অজ্ঞাত রোগীদের নিয়েই কাজ করেন।”

"বাচ্চাটার একটা ইনটেনসিভ কেয়ার দরকার ছিলো। আমরা তার জন্য আয়া ঠিক করে দিয়েছি। তাকে কোনো শেল্টার হোমে রাখা দরকার। আবার তার চিকিৎসার জন্য আইনি অভিভাবক দরকার। সেজন্য আমরা আদালতে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ অপারেশন করা হলে তার কথা বলার সমস্যা কাটবে," বলছেন মারজানা সাফাত।

শিশুটির দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ড. কামাল হোসেন বলছেন, শিশুটির পায়ে সমস্যা কাটানোর জন্য থেরাপি চলছে কিন্তু জিহ্বা তালুর সাথে লেগে আছে যার সমাধান করতে হবে অপারেশন করে।

"অপারেশনের জন্য কিছু আইনি নিয়ম-কানুন আমাদের মেনে চলতে হয়। অপারেশনের আগে আইনি অভিভাবকের অনুমোদন দরকার হয়। তেমন কাউকে পাওয়া গেলে আমরা অপারেশন করাতে পারবো এবং আশাকরি এতে করে তার কথা বলার সমস্যা কাটবে।”