• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪ সকাল

সাকিবের 'কাঁকড়া খামার'

  • প্রকাশিত ০৪:০৫ বিকেল নভেম্বর ৬, ২০১৯
সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে সাকিব আল হাসানের "সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড"।ঢাকা ট্রিবিউন

তৌফিক রহমান বলেন, 'সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খবর শোনার পর থেকে আমাদের কারো মন ভালো নেই' 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালি এলাকায় গড়ে উঠেছে তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের "সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড"। ৩৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই খামারে উৎপাদিত কাঁকড়া বিদেশে রফতানি হচ্ছে।

"সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড"এর সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করছেন তৌফিক রহমান। সাকিব আল হাসানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে ।

তৌফিক রহমান বলেন, "সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খবর শোনার পর থেকে আমাদের কারো মন ভালো নেই। এটি সাকিবের কাঁকড়ার খামার। বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। মূলত বছরের ছয়মাস কার্যক্রম চলে এখানে। বাকি ছয়মাস পুকুর খনন ও অন্যান্য কাজ করা হয়। বর্তমানে পুকুরগুলো আমরা পুনরায় তৈরি করছি।"

তিনি আরও বলেন, "সুন্দরবন থেকে আমাদের ফার্মের জন্য কাঁকড়া সংগ্রহ করা হয়। আগামী শীতের তিনমাস কাঁকড়া পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি আরও দুইমাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকে। সব মিলিয়ে ছয়মাস বন্ধ থাকে। আর ছয়মাস পুরোদমে ব্যবসা চালু থাকে। চারবছর আগে এ প্রজেক্ট শুরু হলেও তিনবছর আগে থেকে ফার্মের কার্যক্রম চালু হয়েছিল।"

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে সাকিব আল হাসানের "সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড"।ঢাকা ট্রিবিউনতৌফিক রহমান আরও বলেন, "এখানে সুন্দরবন থেকে আহরিত ৮০-১২০ গ্রাম ওজনের কাঁকড়া সংগ্রহ করা হয়। কাঁকড়াগুলো সুন্দরবনের নদীতে খোলস দেয় কিন্তু আমরা সফট কাঁকড়া পাই না। সেজন্য ফার্মের বক্সে সেগুলো আবার রাখা হয়। এখানে খোলস বদলের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো আমরা সংগ্রহ করে মাছ প্রসেসিংয়ের মতো করে প্রসেস করি। এরপর সেগুলো প্যাকেটজাত করে বিদেশে রফতানি করা হয়। অনেক দামে বিক্রি হয় এগুলো।"

ব্যবসায় কী পরিমাণ লাভ হচ্ছে এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, "ব্যবসায় লাভ-লস দু’টোই রয়েছে। এব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না। ৩৫ বিঘা জমির ওপর এই ফার্ম করলেও এখানে কখনো আসেননি সাকিব ভাই।"

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ভবতোষ মণ্ডল বলেন, "বেশ কয়েক বছর আগে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান আমার ইউনিয়নের মধ্যে কাঁকড়ার এই ফার্ম গড়ে তোলেন। আমার এলাকার প্রায় ১০০ দিনমজুর সেখানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। সাকিবের কাঁকড়ার ফার্মের জন্য এখানে মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।।"

তিনি আরও বলেন, "সাকিব ভাই এখনো ফার্মে আসেননি। তবে আসবেন বলে মনস্থির করেছিলেন। এরমধ্যে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ার কারণে আর আসা হয়নি। সুন্দরবনের কাঁকড়াগুলো যে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব সেটি স্থানীয় কারো মাথায় এর আগে আসেনি। সাকিব সেটা করে দেখালেন। ক্রিকেটের মতো ব্যবসায়ও সেরা সাকিব।"