• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

চোখের জলে বিদায় নিলেন এসপি হারুন

  • প্রকাশিত ০৮:৩৭ রাত নভেম্বর ৭, ২০১৯
হারুন অর রশিদ
বিদায়ী সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি হারুন অর রশিদ। ঢাকা ট্রিবিউন

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ লাইনসে বিরাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে হারুন অর রশীদকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ

আবেগঘন পরিবেশে, অশ্রুসিক্ত নয়নে নারায়ণগঞ্জ পুলিশকে বিদায় জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপারের পদ থেকে সদ্য অপসারিত হারুন অর রশীদ। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ লাইনসে বিরাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে হারুন অর রশীদকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন বিদায়ী এসপি। অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি বলেন, "নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সবাই প্রতিটি কর্মকাণ্ডে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। সাংবাদিকরাও আমার ভালো কাজে উৎসাহ দিয়েছেন। এখানে আমি সব সময় মন থেকেই কাজ করেছি। আমি চেষ্টা করেছি ঐ মানুষগুলোর দুঃখ কষ্ট দূর করতে। জেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কাজ করেছি।"

সাবেক এসপি হারুন আরও বলেন, "সর্বশেষ আমরা একটি ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে; তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে; মামলার অপরাধীকে ধরতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছি। আসলে কোনটা সত্যি তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। একটা মানুষের নামে যদি ওয়ারেন্ট থাকে এবং ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে কাউকে যদি আনা হয় তাহলে সেটা কিন্তু আইনের ব্যত্যয় নয়।"

এসময় গুলশান ক্লাবের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলকে ইঙ্গিত করে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি বলেন, "আপনি আমার বিরুদ্ধে বলতেই পারেন। আপনি যদি বলেন, এসপি সাহেব আমার কাছে পাঁচটা টাকা চেয়েছেন সেক্ষেত্রে আমরা কিছু করার নেই। এটা তদন্তেই বোঝা যাবে যে, আপনার কাছে আমি টাকা চেয়েছি? না চাইনি।"

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিরাট  আয়োজনে এসপি হারুন অর রশীদকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। ঢাকা ট্রিবিউন। 

গত ২ নভেম্বর রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে হারুন অর রশীদ বলেন, "আমার সহকর্মীকে কেউ যদি লাঞ্ছিত করে আমার সহকর্মীকে কেউ যদি অস্ত্র ঠেকায় তাহলে সেটা আমি মেনে নিতে পারিনা। মেনে নিতে পারি নাই বলেই কিন্তু সেদিন ঐ ব্যক্তিটি কত বড় শক্তিশালী কত বড় সম্পদশালী সেটি আমি দেখিনি। আমার কাছে মনে হয়েছে যে একটা সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন মামলা হয় তেমনি মামলা হয়েছে।"

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, "এই নারায়ণগঞ্জে আমার আর এসপি হিসেবে আসা হবেনা। কিন্তু, নারায়ণগঞ্জের মানুষের সাথে আমার যেই রক্তের সম্পর্ক এটা ঠিকই অটুট থাকবে। আমি সব সময় আমার সহকর্মীদের সমস্যা জানতে চাইতাম; তাদের সঙ্গে একসাথে খাবার রান্না করে খেতাম। হয়তো তাদের সাথে আরা এভাবে খাবার রান্না করে খাওয়া হবে না। এটাই কিন্তু দুর্ভাগ্য।আসলে দুর্ভাগ্য নয়, এটাই নিয়তি। হয়তো বা এক সময় আমাকে চলে যেতে হতোই তাই আমি চলে যাচ্ছি।"

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, র‌্যাব-১১ এর সিইও কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম প্রমুখ।