• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১ দুপুর

আরও শক্তি সঞ্চয় করে ধেয়ে আসছে ‘বুলবুল’

  • প্রকাশিত ০১:৩৭ দুপুর নভেম্বর ৮, ২০১৯
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের গতিপথ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টি হতে পারে, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘‘বুলবুল’’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল আকার ধারণ করছে। এর প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। আবহাওয়ার এক সতর্কবার্তায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকেই বন্দরগুলোতে সতর্কতা সংকেত জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে।


আরও পড়ুন - প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে ‘বুলবুল’, ৩ নং সতর্ক সংকেত


আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও তীব্র হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ‘‘বুলবুল’’ এর কারণে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্রভাবিত হতে পারে। 

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টি হতে পারে, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।

ঢাকা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” এর প্রভাবে মংলা ও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকাগুলোতে গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে। 

খুলনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এদিন খুলনা শহরে সূর্যের দেখা মেলে সকাল ৯টারও পরে। সকাল সাড়ে এগারটা থেকে শুরু হয়েছে হালকা বৃষ্টি।


আরও পড়ুন - ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: মংলা ও পায়রা বন্দরে ৪ নম্বর সংকেত


জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ভোর ছয়টা থেকে মংলা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল ছয়টা পর্যন্ত মংলা বন্দর থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ৬৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলো। 

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ৯টার পর থেকে খুলনার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা বা শনিবার সকাল থেকে খুলনায় ঝড়টির তীব্রতা পরিলক্ষিত হতে পারে। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ এ অঞ্চল দিয়ে বয়ে যেতে পারে বুলবুল। 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বুলবুলের প্রভাবে জেলার পায়রা সমুদ্র বন্দরকেও ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ রয়েছে মেঘাচ্ছন্ন। সতর্কতা সংকেত জারির পর মাছ ধরার ট্রলারগুলো তীর ফিরতে শুরু করেছে।

কলাপাড়া উপজেলার ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায় নি।


আরও পড়ুন - জাহাজ চলাচল বন্ধ, সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন দেড় হাজার পর্যটক


জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো বশির আহম্মেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শনিবার মধ্যরাতে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর সংকেত জারি করা হয়েছে। নদী বন্দরে জারি করা হয়েছে ১ নম্বর সংকেত।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘‘বুলবুলে’’র কারণে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সেখানে আটকা পড়েছেন দেড় হাজারের মতো পর্যটক। এক হাজারের বেশি পর্যটক টেকনাফ ঘাট থেকে ফিরে গেছেন।