• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১ দুপুর

পালিয়ে গেল মা সাপ, বাচ্চারা ধরা

  • প্রকাশিত ০৯:১৩ রাত নভেম্বর ৮, ২০১৯
নারায়ণগঞ্জ
সাপের বাচ্চাগুলো দেখতে ভিড় জমায় স্থানীয় জনতা। ঢাকা ট্রিবিউন

কিন্তু মা সাপটি ধরার আগেই পালিয়ে যায়

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার একটি বসতঘর থেকে ৮টি গোখরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বরগাঁও আদমপুর গ্রামের ওমর আলী মুন্সির বাড়ি থেকে সাপের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় সাপগুলো এক নজর দেখতে ওমর আলী মুন্সীর বাড়িতে শত শত লোক ভিড় করে।

ওমর আলী মুন্সির ছেলে মো. আজিজ মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে বসত ঘরে একটি সাপের খোলস দেখতে পান তার স্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার সকালে ঘরের মেঝেতে বিছানো রেক্সিনের নিচে একটি বিষাক্ত কালি পানস (গোখরার স্থানীয় নাম) সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। এ সময় সেটিকে মেরে ফেলা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে রূপগঞ্জের তারাব এলাকা থেকে মোস্তফা ও মতিন মিয়া নামের দুইজন সাপুড়েকে ডেকে আনা হয়। তারা ঘরের মেঝের মাটির খুঁড়ে ৮টি কালি পানস সাপের বাচ্চা ও ডিমের খোলস উদ্ধার করে। পরে সাপের বাচ্চাগুলো তাদের জিম্মায় নিয়ে যান।


আরও পড়ুন - ঠাকুরগাঁওয়ে বিরল প্রজাতির লক্ষ্মীপেঁচা উদ্ধার


সাপুড়ে মোস্তফা ও মনির জানান, আমরা ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে ৮টি বিষধর কালি পানস সাপের বাচ্চা ও ৩০টি সাপের ডিমের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু মা সাপটি ধরার আগেই পালিয়ে যায়। 

বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ সাপটি মনোসিলেড কোবরা যা বাংলায় ‘গোখরা সাপ’ হিসেবে পরিচিত। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বিষাক্ত সাপ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ সাপটি ফসলের খেত, জলাভূমি, বন ও মানুষের বসতিতে বাস করে। সাধারণত বর্ষাকালে স্ত্রী সাপ ৮ থেকে ১৮টি ডিম পাড়ে এবং ডিম না ফুটে বাচ্চা বের হওয়া পর্যন্ত মা সাপ ডিমের সাথেই থাকে। নিশাচর এই সাপটি মাছ, ইদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি, ছোট সাপ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। এ সাপটি বিরক্ত হলে প্রথমে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। তবে বেশি ভয় পেলে আত্মরক্ষার্থে কামড় দেয়। সাপটি সারাদেশেই কমবেশি দেখা যায়।”


আরও পড়ন - মেছোবাঘকে গ্রামবাসীর পিটুনি, উদ্ধার করলো বন বিভাগ


সাপ হত্যাকে নিরুৎসাহিত করে তিনি আরো বলেন, “আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) মতে সাপটি নূন্যতম বিপদগ্রস্থ। এ ছাড়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। এই বন্যপ্রাণী হত্যায় শাস্তির বিধান রয়েছে।”