• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩১ দুপুর

উচ্চশিক্ষায় বিদেশে গিয়ে আর ফিরছেন না খুবির ৩৭ শিক্ষক

  • প্রকাশিত ১০:৪৫ সকাল নভেম্বর ১১, ২০১৯
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: সংগৃহীত

'এসব শিক্ষক ও তাদের জামিনদারদের চিঠি দিয়েও সাড়া মিলছে না'

উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর দেশে ফিরে আসেননি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩৭ শিক্ষক। শুধু তাই নয়, এই শিক্ষকদের অনেকে যে দেশে গিয়েছিলেন আদৌ সেখানে আছেন কিনা বা তাদের বর্তমান অবস্থান কোথায়, সেসম্পর্কে কিছু জানে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। দেশে ও বিদেশের ঠিকানায় এসব শিক্ষক ও তাদের জামিনদারদের চিঠি দিয়েও সাড়া মিলছে না।

খুবি সূত্র জানায়, শিক্ষা ছুটি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়তে যাওয়া নতুন কিছু নয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে এজন্য একজন শিক্ষক সাত বছর ছুটি পান। যার পাঁচবছর পেয়ে থাকেন পূর্ণ বেতন সুবিধা, পরবর্তী এক বছর অর্ধেক বেতন। এছাড়া বিনা বেতনে কাটাতে পারেন আরও একবছর।

তবে এসব ক্ষেত্রে দেশে ফিরে শিক্ষাছুটির সমপরিমাণ সময় প্রতিষ্ঠানে কাজ করার শর্তে শিক্ষকদের ছুটি মেলে। শর্তগুলো মেনে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ৩৭ জন দেশে ফেরেননি। যাদের তিনজনকে বরখাস্ত ও পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এছাড়া আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার সাধন রঞ্জন ঘোষ বলেন, "কেউ কেউ ইনস্টলমেন্টের টাকা ফেরত দিয়েছেন আবার কেউ কেউ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আর যারা আসছেন না, এটা ক্ষমাহীন অপরাধ। এই জায়গাটায় তাদের দেশপ্রেম, তাদের নৈতিকতা সব কিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।"

"উচ্চশিক্ষা নিতে বিদেশে গিয়ে শিক্ষকরা কেন ফিরছেন না- বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। দরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত গবেষণার ক্ষেত্র সৃষ্টি," যোগ করেন তিনি।

খুবি’র ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি)  ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক শরীফ হাসান লিমন বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা হলেন বিশ্বসম্পদ। তিনি জ্ঞান ছড়াতে চাইবেন, তিনি গবেষণা করতে চাইবেন। কিন্তু তারা যখন এমন পরিবেশ পাচ্ছেন না তখন পরিস্থিতির কারণে অনেকে হয়ত বিদেশে চলে গেছেন।"

এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ জামান বলেন, "বেতন-ভাতার সুবিধা নিয়ে উচ্চশিক্ষার নামে বিদেশ গিয়ে ফেরত না আসা দুঃখজনক। তারা বলেন যে এখানে কাজ করার সুযোগ-সুবিধা কম। সরকার কিন্তু এখন অনেক ধরনের শিক্ষাসহায়ক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আর এরমধ্যেই দেশে অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী তৈরি হয়েছে। একটা সময় এদেশে কিছুই ছিল না। তারমধ্যেও বিজ্ঞানী সত্যেন বোস ছিলেন। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র ছিলেন।"

উচ্চশিক্ষা অর্জনে বিদেশ গিয়ে শিক্ষকদের না ফেরার ফলে দেশ মেধাসম্পন্ন মানুষ হারাচ্ছে এবং তা বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মত দেন তিনি।