• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

সাগর-রুনি মামলার তদন্ত অনন্তকাল ধরে চলবে কিনা, হাইকোর্টের প্রশ্ন

  • প্রকাশিত ০৩:১১ বিকেল নভেম্বর ১১, ২০১৯
সাগর-রুনি
ফাইল ছবি।

আদালত হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘দীর্ঘ ৮ বছর মামলার তদন্ত শেষ হয়নি, তদন্ত শেষ হবে কবে? তদন্ত কি অনন্তকাল ধরে চলবে?’


সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, “দীর্ঘ সাতবছরে মামলাটির তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ হবে কবে? অনন্তকাল ধরে তদন্ত চলবে কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১১ নভেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তলবে হাজির হওয়া র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শফিকুল আলমকে উদ্দেশ্যে এসব প্রশ্ন তোলেন।

পরে আদালত এই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি তানভীর রহমানের মামলা বাতিলের আবেদনের ওপর আদেশের জন্য আগামী ১৪ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে আসামি তানভীরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

এর আগে, ২০ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট। মামলার সিডিসহ তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শফিকুল আলমকে হাজির হতে বলা হয়।

শুনানিকালে তদন্ত কর্মকর্তা খন্দকার শফিকুল আলম আদালতে বলেন, “এ মামলার কোনো ক্লু খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডিএনএ টেস্টের জন্য চারটি নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। যার দুটি নমুনা এসেছে। এসব নমুনার সাথ আসামিদের কারো সাথে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। অপর দুটি পরীক্ষা এফবিআই’তে পাঠানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ‌কোনো অগ্রগতি নেই।”

আলামত হিসেবে কী পাওয়া গেছে, আদালতের এমন প্রশ্নের উত্তরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কয়েকটি ছোরা, দা, বটি পেয়েছি। তবে রিপোর্ট না আসায় কারো সাথে মিল পাওয়া যায়নি।” এসময় আদালত হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “দীর্ঘ ৮ বছর মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ হবে কবে। তদন্ত কি অনন্তকাল ধরে চলবে?”

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়াবাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে এ মামলায় মোট আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।