• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

সাহসিকতার পুরস্কার পেলো নওগাঁর ট্রেন রক্ষাকারী শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশিত ০৫:২৮ সন্ধ্যা নভেম্বর ১১, ২০১৯
নওগাঁ ট্রেন
তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে ট্রেন থামিয়ে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করেছে নওগাঁর জেলা প্রশাসন ঢাকা ট্রিবিউন

তাদের সংকেত পেয়ে ভাঙা অংশের আগে ট্রেনটিকে থামিয়ে দিয়েছিলেন চালক। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন হাজারো যাত্রী

নওগাঁর রাণীনগর রেল স্টেশনের বাইরে চকের ব্রিজের আগে বড়বড়িয়া-গোনা এলাকায় রেললাইনের নিচের অংশ প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। লাইনটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা ছিলো। গত ১ নভেম্বর রেললাইন পার হওয়ার সময় বিষয়টি নজরে এলে ভাঙা রেললাইনের পাশে অপেক্ষা করতে থাকে কয়েকজন স্থানীয় কিশোর। একসময় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া একতা এক্সপ্রেস ওই জায়গার কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। তাৎক্ষণিক একজনের পরনে থাকা লাল গেঞ্জি উঁচিয়ে ট্রেনটিকে থামার জন্য সংকেত দেয় ওই কিশোররা। সংকেত পেয়ে ভাঙা অংশের আগে ট্রেনটিকে থামিয়ে দেন চালক। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান হাজারো যাত্রী। 

এরপর ট্রেনচালক বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান।

তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ওই কিশোরদের প্রশংসাপত্র ও শুভেচ্ছা পুরস্কার দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তাদের হাতে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। 

জেলা প্রশাসন সম্মাননা দিয়েছে- উপজেলার পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাইম হোসেন (১৫), বড়বড়িয়া গ্রামের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিমেল হোসেন (১১), বিজয়কান্দি গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী অন্তর হালদার (১১), একই গ্রামের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিপ্লব হালদার (১৪), পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইব্রাহিম প্রান্ত (১৩), একই গ্রামের রাণীনগর শেরে বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী বাঁধন হোসেন (২১), রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিউটিটের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন (২১), নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন (২১) ও কৃষক লোকমান হোসেন (৫১)।

এসময় জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশিদুল হক, নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নজমুল হক সনি, রাণীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নবীর উদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক সরকারি কর্মকর্তা, জেলার সব উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, তাদের সাহসিকতার পুরস্কার দেওয়া সম্ভব নয়। তাদেরকে ভালো কাজে উৎসাহিত করতেই মূলতঃ এই শুভেচ্ছা উপহার। এতে করে ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হবে। তাদের দেখাদেখি সমাজের অন্যান্যরাও উৎসাহিত হবেন।