• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪১ দুপুর

'মাঝরাতে বিকট শব্দ, ছিটকে পড়ে আছে নারী-পুরুষ'

  • প্রকাশিত ১২:০৮ দুপুর নভেম্বর ১২, ২০১৯
ট্রেন দুর্ঘটনা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশনে ১১ নভেম্বর রাতে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়। ফোকাস বাংলা

"ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কান্নার শব্দ। এখানে সেখানে ছিটকে পড়ে আছে নারী- পুরুষ-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের মরদেহ"

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১৬ জন। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ঘটা এ ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীদের পাশাপাশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রাও। 

মন্দবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালাম বলেন, "আমরা গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কান্নার শব্দ। এখানে সেখানে ছিটকে পড়ে আছে নারী- পুরুষ-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের মরদেহ। এলাকার সবাই বেরিয়ে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করি।"

ট্রেনের ভেতরে থাকা তুর্ণা নিশিতার যাত্রী কাজি ফজলে রাব্বি বলেন, "উদয়ন এক্সপেস স্টেশনে ঢোকার আগেই বিপরীত দিক থেকে তুর্ণা নিশিতা এসে ধাক্কা দেয়। এতে তিনটি বগি ছিটয়ে পড়ে যায়। আমরা এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। পরে তাড়াতাড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে পড়ি।"

উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, "আমাদের ট্রেনটি লাইন ক্রস করছিল। ওই সময় দ্রুত গতিতে এসে তুর্ণা ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। আমি সামনে বগিতে থাকায় কিছু হয়নি। তবে পেছনে ঝ ও ঞ-সহ আরেকটি বগির মানুষ গুরুতর আহত হয়। আমরা সবাই ট্রেন থেকে নেমে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করি।" 

মন্দবাগ রেলস্টেশনের মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী জানান, আউটার ও হোম সিগন্যালে লালবাতি (সর্তক সংকেত) দেওয়া ছিল। কিন্তু তুর্ণা নিশিতার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, তুর্ণা নিশীথা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে আর উদয়ন এক্সপ্রেস সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। সেসময় দুর্ঘটনা ঘটে। সিগন্যাল না মানায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।