• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

৫০ টাকায় মোবাইলে চার্জ

  • প্রকাশিত ০৪:৩০ বিকেল নভেম্বর ১২, ২০১৯
মাদারীপুর
মাদারীপুরে কালকিনি উপজেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় ৫০ টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে চার্জ দিয়ে দিচ্ছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।ঢাকা ট্রিবিউন

উপজেলার গোপালপুর এলাকায় ঘুরে ঘুরে একই ব্যবসা করছেন মহসিন

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই মাদারীপুরে কালকিনি উপজেলায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসহ লাখ-লাখ মানুষ। এই চরম দুভোর্গের মধ্যে কালকিনি উপজেলা শহরে দোকান খুলে বসেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। বিদ্যুৎ না থাকায় ৫০ টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে চার্জ দিয়ে দিচ্ছেন তারা।  

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বেল্লাল ডেকোরেটর, দুলাল ডেকোরেটর, আলি হোসেন ডেকোরেটরসহ গোপালপুর, ভুরঘাটা, কালকিনি থানার মোড় ও মাছ বাজারের প্রায় ২০টি দোকানে জেনারেটরের মাধ্যমে ৫০ টাকার বিনিময় মোবাইল চার্জ দেওয়া হচ্ছে। 

জানা যায়, কালকিনি উপজেলার বিদ্যুতের ৯১টি খুঁটি হেলে পড়া ও ভেঙ্গে যাওয়া এবং তিনটি ট্রান্সফর্মার নষ্ট হওয়ায় বিদ্যুৎ নেই তিনদিন। এ অঞ্চলে সব মোবাইল নেটওয়ার্কও একদিন বন্ধ ছিল। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়। তবে ফোনে চার্জ না থাকায় বন্ধ ছিল যোগাযোগ। 

এরমধ্যে কালকিনিতে জেনারেটর চালু করে একাধিক ব্যবসায়ী টাকার বিনিময়ে শুরু করেন মোবাইল চার্জ। টাকার বিনিময়ে হলেও মোবাইলে চার্জ দিতে পেরে খুশি এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা।

বেল্লাল ডেকোরেটরের মালিক বেল্লাল জানান, "তিনদিন যাবত এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। যখন জেনারেটর চালু করে মোবাইল চার্জ দিচ্ছিলাম তখন হঠাৎ কয়েকজন ব্যাগে করে মোবাইল ও চার্জার লাইট চার্জ দিতে নিয়ে আসে। প্রথমে আমি দিতে চাইনি। পরে তারা টাকা দিতে চাইলো। তাছাড়া জেনারেটর চালু করে আমারও অনেক খরচ হয়। খরচ যাই হোক সকলকেই ইলেকট্রিক সামগ্রীতে চার্জ দিয়ে দিলাম। আমি প্রতি মোবাইল চার্জ দিতে ২০ টাকা করে নিচ্ছি।"

উপজেলার গোপালপুর এলাকায় ঘুরে ঘুরে একই ব্যবসা করছেন মহসিন। তিনি জানান, "আমি দেখলাম টাকা নিলেও মানুষের উপকার হচ্ছে। তাই জেনারেটর ভাড়া করে সকলের চার্জের ব্যবস্থা করছি। আমি চার্জ প্রতি ৫০, ৩০, ২০ টাকা; যার কাছ থেকে যা নেওয়া যায়, নিচ্ছি। আর এলাকার মানুষও খুশি।" 

মোবাইল চার্জ দিতে আসা হেমায়েত হোসেন, সুমনা, হাকিম, নাঈম, হেলাল,জরিনা, রতন নামের কয়েকজন জানান, "টাকা লাগছে এতে কোনো সমস্যা নেই। মোবাইল, লাইট, চার্জার লাইট চার্জ দিতে পেরেছি, এতেই আমারা খুশি। তাছাড়া তাদেরও জেনারটর খরচ আছে। তাদের কারণে আমাদের উপকার হচ্ছে।" 

মাদারীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কালকিনি উপজেলা অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আবদুল মাজেদ জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে কালকিনি উপজেলার বিদ্যুতের ৯১টি খুঁটি হেলে ও ভেঙে গেছে। নষ্ট হয়েছে তিনটি ট্রান্সফর্মার। এছাড়া একাধিক এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুতের লাইন চালু করতে সময় লাগছে। দুই-একদিনেও সব লাইন চালু করা যাবে কিনা নিশ্চিত নয়। তবে শহর এলাকায় বিদ্যুৎ সোমবার থেকে চালু করা হয়েছে।