• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৭ সকাল

রাষ্ট্রবিরোধী ও উস্কানিমূলক ওয়াজ: নিষিদ্ধ হলেন রাজ্জাক-মনোয়ার-জসিম

  • প্রকাশিত ০৫:৪৪ সন্ধ্যা নভেম্বর ১৩, ২০১৯
কুমিল্লা ওয়াজ
(বাঁ দিক থেকে) মাওলানা তারেক মনোয়ার, আব্দুর রাজ্জাক ও জসিম উদ্দিন। ঢাকা ট্রিবিউন

'আমাদের দেশের মানুষ সহজ-সরল ও অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো কোনো বক্তা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন এবং শান্তিময় পরিবেশ নষ্ট করেন। ওই তিন বক্তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠায় সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি রোধে কুমিল্লায় তাদের ওয়াজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে'

রাষ্ট্রবিরোধী ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে মাওলানা তারেক মনোয়ার, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ ও মাওলানা জসিম উদ্দিন নামে তিন ইসলামী বক্তা ও টিভি উপস্থাপকের ওয়াজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াজের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং মুসলমানদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তারা ইসলাম ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সমাজের শান্তি বিনষ্ট করে আসছিলেন। তাদের ওয়াজে ইসলামের আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেয়ে উগ্রবাদ বেশি প্রকাশ পায়। তাই কুমিল্লা জেলায় তাদের ওয়াজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সোমবার (১১ নভেম্বর) জেলার আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় এই তিন বক্তাকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ অনেকে মাওলানা তারেক মনোয়ার, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ ও মাওলানা জসিম উদ্দিনের ইসলামি আলোচনার ধরণ নিয়ে অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ ছিল, রাষ্ট্রবিরোধী ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তারা সমাজ ও মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই তিন বক্তাকে নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি রেজ্যুলেশন তৈরি হয়। এরপর থেকে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় তাদেরকে নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে চলতিবছরের অক্টোবর মাসে জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় মাওলানা তারেক মনোয়ারসহ ওই তিন বক্তার ওয়াজ কুমিল্লায় নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

অবশেষে সোমবারের আইনশৃংখলা কমিটির সভায় তাদেরকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। 

এবিষয়ে কুমিল্লা জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম বলেন, ২০১৬ সালে ৬ অক্টোবর জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় মাওলানা তারেক মনোয়ারসহ অভিযুক্ত তিন বক্তার ওয়াজ নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ২০১৮ সালে তাদের বক্তব্য নিষিদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। 

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মাওলানা তারেক মনোয়ারসহ তিন বক্তার ওয়াজ কুমিল্লায় নিষিদ্ধ করা হয়। গত অক্টোবর মাসের আইনশৃংখলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নিষিদ্ধের বিষয়টি নভেম্বর মাসের আইনশৃংখলা কমিটির সভায় রেজুলেশন পড়ে ঘোষণা করা হয়।      

কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের মানুষ সহজ-সরল ও অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো কোনো বক্তা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন এবং শান্তিময় পরিবেশ নষ্ট করেন। ওই তিন বক্তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠায় সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি রোধে কুমিল্লায় তাদের ওয়াজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

ওয়াজে বক্তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আয়োজকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যথাযথভাবে অনুমতি নিয়ে ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন করতে হবে। 

নিষিদ্ধের বিষয়ে জানাতে চাইলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, নিষিদ্ধের পরেও তারা কুমিল্লায় ওয়াজ করছেন এমন অভিযোগ পেলে আয়োজক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার প্রত্যেক উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।