• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯ রাত

রাস্তায় জমাট পানি: রাতারগুল যেতে পর্যটকদের দুর্ভোগ

  • প্রকাশিত ০৭:৩৫ রাত নভেম্বর ১৩, ২০১৯
রাতারগুল রাস্তা
পাথর ভাঙার মেশিনের কারণে রাতারগুলে যাওয়ার রাস্তায় সারাবছরই জমে থাকে পানি। ঢাকা ট্রিবিউন

বর্ষায় তো নয়ই, শুষ্ক মৌসুমেও এসব গর্তের পানি সরে না। তাই উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় গর্তেই বিকল হয়ে পড়ে থাকে গাড়ি

সিলেট শহরতলীর ধোপাগুল-সাহেববাজার-হরিপুর আঞ্চলিক সড়কের ধোপাগুল পয়েন্ট থেকে মহালদিক সেতু পর্যন্ত রাস্তার পাশে বসানো হয়েছে শতাধিক পাথর ভাঙার (ক্র্যাশার) মেশিন। এ মেশিনগুলোর কোনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ আঞ্চলিক সড়কের নির্দিষ্ট অংশে সবসময় পানি জমে থাকে। তাই “জলাবন” খ্যাত রাতারগুল বনে যেতে পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদেরকেও পড়তে হচ্ছে চরম অসুবিধায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে ধোপাগুল থেকে সালুটিকর পর্যন্ত গড়ে উঠেছে কয়েকশ' ক্র্যাশার মেশিন। মেশিন বসালেও পানি নিষ্কাশনের পথ রাখেননি এগুলোর মালিকেরা। ক্র্যাশার থেকে নিষ্কাশিত পানি সড়ক দিয়েই গড়াচ্ছে। ফলে ধোপাগুল-সাহেবেবাজার সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এসব গর্তে জমেছে ছোটখাটো ডোবার মতো পানি।

বর্ষায় তো নয়ই, শুষ্ক মৌসুমেও এসব গর্তের পানি সরে না। তাই উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে হয়। আবার অনেক সময় গর্তেই বিকল হয়ে পড়ে থাকে গাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কের সংস্কার না হওয়ার বিষয়টি ক্ষুব্ধ করে তুলেছে স্থানীয়দের। এ বিষয়ে তারা একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

ধোপাগুল-সাহেববাজার সড়ক সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরে এ সড়কের বেহাল দশা। এ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয়রা নিরুপায় হয়ে আন্দোলনে নামছেন। ক্র্যাশার মেশিন সরিয়ে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবিও জানান তিনি। গত বছর ওই সড়কে ধানের চারা রোপন করে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।


আরও পড়ুন - মিলার: রাতারগুলের মতো জলাভূমি সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি


স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত। দেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুলে যাওয়ারও একমাত্র পথ এটি। মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশার কারণে তাদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

এলজিইডি’র সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মহসিন বলেন, ‘‘ধোপাগুল-মহালদিক এলাকায় সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা ক্র্যাশার মিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখেননি মিল মালিকরা। দিনের পর দিন তারা সড়কের ওপরেই পানি ফেলে আসছেন। তাই সারা বছরই পানি জমে থাকে সড়কে।’’

তিনি বলেন, এই শুষ্ক মৌসুমেও যে সড়কে হাঁটু পানি, সেই সড়ক সংস্কার করেও সুফল আশা করা যায় না। সড়ক টিকিয়ে রাখতে হলে পাথর ভাঙার মিলগুলোকে অপসারণ করতে হবে। তবে পানি নিষ্কাশনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে সড়কটিকে রক্ষা করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের কো-অর্ডিনেটর এডভোকেট শাহ শাহেদা আখতার জানান, সিলেট অঞ্চলে ক্র্যাশার মেশিন স্থাপন বন্ধের কথা বলা হলেও দিন দিন এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এটা পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য খুবই বিপজ্জনক। 

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সিলেটে একটি ক্র্যাশার মেশিন জোন স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গোয়াইনঘাটে ১৩৩ একর জমিও নির্বাচন করা হয়েছে। 

অনুমতি পেলেই জমি অধিগ্রহণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তখন সবগুলো ক্র্যাশার মেশিন জোনের ভেতরে নিয়ে আসা হবে।