• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫৬ রাত

গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদেশি শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

  • প্রকাশিত ০৮:১০ রাত নভেম্বর ১৩, ২০১৯
গোপালগঞ্জ
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত

ওই বিদেশি শিক্ষার্থীর দাবি, তিনি নিরপত্তাহীনতা ভুগছেন এবং এ সময় যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তবে তার জন্য শিক্ষক হুমায়ুন কবির দায়ী থাকবেন

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন একজন বিদেশি শিক্ষার্থী। 

বুধবার (১৩ নভেম্বর) ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। 

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. হুমায়ূন কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক।

ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, মো. হুমায়ুন কবির ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতেন। ক্লাস শেষে প্রায়ই ওই শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে বলতেন। এ সময় তার সাথে ফ্রিভাবে কথা বলতে ও বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। এরইমধ্যে হুমায়ুন কবির একদিন তাকে ফেসবুকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠান ও তা এক্সেপ্ট করার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করেন। তারপর থেকেই হুমায়ুন কবির ফেসবুকের ইনবক্সে নানা রকম আপত্তিকর কথা-বার্তা বলতে থাকেন। এমনকি তাকে বিয়ে করারও প্রস্তাব দেন। এতে ওই শিক্ষার্থী ভীষণ বিব্রত হন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হবে বলে হুমায়ুন কবিরকে জানান ওই শিক্ষার্থী। এতে ক্ষেপে গিয়ে হুমায়ুন কবির বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো প্রকার সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে দেবেন না বলেও সাবধান করেন। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, এই ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন এবং এ কারণে তার পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া এ সময় যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তবে তার জন্য হুমায়ুন কবির দায়ী থাকবেন বলেও জানান ওই বিদেশি শিক্ষার্থী। 

জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টিকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এ ধরণের কোনো ঘটনা আদৌ ঘটেনি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. নুরউদ্দিন আহমেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন কর করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”