• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

কোটালীপাড়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের জায়গা দখল, প্রাণনাশের হুমকি

  • প্রকাশিত ১২:৩৬ দুপুর নভেম্বর ১৪, ২০১৯
গোপালগঞ্জ
রাতের আঁধারে সংখ্যালঘু পরিবারের জায়গা দখল করে ঘরটি তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা ট্রিবিউন

কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বলেন,  ‘এই জায়গারটির উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাচ্চু শেখ সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে লোকজন নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছে। বাচ্চু শেখ ওই জায়গা তার দাবি করলেও, কাগজপত্র দেখাতে পারেনি’

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় প্রভাবশালী দখলদারেরা রাতের আঁধারে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জায়গা দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চাইতে গেলে দখলদারেরা ভুক্তভোগী পরিবারটির সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ডহরপাড়া গ্রামের খোকন চন্দ্র দাস ৬৯ নং মোক্ষকোটালী মৌজার ২৭৯, ২৮০, ৩২৫ দাগের ৭৩ শতাংশ জায়গা প্রায় ৪৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। ২০১৫ সালে খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর পৈত্রিকসূত্রে ওই জায়গার মালিক হন খোকন চন্দ্র দাসের দুই ছেলে বিমল দাস ও কালা চাঁদ দাস। 

গত মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ডহরপাড়া গ্রামের বাচ্চু শেখ, আলাউদ্দিন শেখ ও নজরুল ইসলাম শেখ মিলে রাতের আঁধারে ঘর তুলে জায়গাটি দখল করে নেন। জায়গাটি দখল করে নেওয়ার পর বিমল দাস বাচ্চু শেখ গংদের কাছে তার জায়গার ঘর তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবননাশের হুমকি হয় বলেও অভিযোগ করেছেন বিমল। 

বিমল দাস বলেন, বাবার মৃত্যুর পরে জমিটি আমরা ভোগ দখল করে আসছিলাম। এই ৭৩ শতাংশ জায়গার ৩২ শতাংশ জায়গা আমরা শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলাউদ্দিন হাওলাদারসহ ৪ জনের কাছে বিক্রি করেছি। বাকি জায়গাটি আমাদের ভোগ দখলে রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে রাতের আঁধারে পুরো ৭৩ শতাংশ জায়গাই বাচ্চু শেখ, আলাউদ্দিন শেখ ও নজরুল শেখ গংরা দখল করে নেয়। 

শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, “গত বছর বিমল দাস ও তার ভাই কালা চাঁদ দাসের কাছ থেকে আমিসহ ৪ জনে মিলে ৩২ শতাংশ জায়গা ক্রয় করি। গত কয়েকদিন আগে ওই জায়গায় ভবন নির্মাণের জন্য ইট, বালু, সিমেন্ট এনে রাখি। কিন্তু রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাচ্চু গংরা আমার ভবন নির্মাণের প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার মালামাল ওখান থেকে নিয়ে যায় এবং ওই জায়গায় ঘর তুলে পুরো ৭৩ শতাংশ জায়গা দখল করে নেয়। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ বিষয়ে আমি বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করি। পুলিশ রাতেই বাচ্চুকে   গ্রেফতার করেছে।”

স্থানীয় কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন সরদার নান্না বলেন, “আমি জন্মের পর থেকেই দেখছি এই জায়গাটি বিমল দাসের পরিবার ভোগ দখল করে আসছে। এখন বাচ্চু গংরা এটা তাদের জায়গা বলে দাবি করছে। বাচ্চুরা কিভাবে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করছে সেটি আমার বোধগম্য নয়।”

এ বিষয়ে বাচ্চু শেখের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “জায়গাটির আমাদের বৈধ কাগজপত্র আছে।” তবে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। 

কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বলেন, “এই জায়গারটির উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাচ্চু শেখ সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে লোকজন নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছে। বাচ্চু শেখ ওই জায়গা তার দাবি করলেও, কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অপরদিকে শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলাউদ্দিন হাওলাদার ভবন নির্মাণের মালামাল চুরির একটি অভিযোগ এনে বাচ্চু শেখসহ ১১ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বাচ্চু শেখকে গ্রেফতার করি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিমল দাসের পরিবারকে জীবন ও জায়গা জমি রক্ষায় নিরাপত্তা দেওয়া হবে।”