• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০ রাত

হাসপাতালের বিল দিতে না পারায় নবজাতক চুরির অভিযোগ

  • প্রকাশিত ১২:৫৮ দুপুর নভেম্বর ১৪, ২০১৯
নবজাতক
প্রতীকী ছবি

নবজাতকের মা সখিনা বেগম বলেন,  আমার ধারণা বিল দিতে না পারায় ক্লিনিকের লোকজনই এ ঘটনা ঘটিয়েছে

নরসিংদীতে মেরিস্টোপস ক্লিনিক থেকে তিনদিন বয়সী এক নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নবজাতকের পরিবার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করছে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকালে জেলা শহরের বাসাইলস্থ ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া নবজাতক নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটনা গ্রামের শাহ আলম ও সখিনা বেগম দম্পত্তির সন্তান।

নরসিংদী সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ইমরান হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে শাহ আলমের স্ত্রী সখিনা বেগমকে নরসিংদী শহরের বাসাইলস্থ মেরিস্টোপস ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরদিন রবিবার সকালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে খেতে বসেন নবজাতকের মা সখিনা বেগম। এ সময় ক্লিনিকের গাইনি ওয়ার্ডের ভেতর থেকেই অজ্ঞাত এক নারী নবজাতককে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার নবজাতকের পরিবারের দাবি, বিল পরিশোধ করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কৌশলে নবজাতককে সরিয়ে দিয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই নবজাতকের মায়ের এক নারী আত্মীয় এসে নবজাতককে সরিয়ে নিয়ে তারা এখন মিথ্যা অভিযোগ করছেন। খবর পেয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

নবজাতকের মা সখিনা বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ হাসপাতালের ১৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে পারছিলাম না। পরে তারা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এই টাকা যোগাড় করতে আমার বিলম্ব হচ্ছিল। এরইমধ্যে আমার কন্যা শিশুকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আমার ধারণা বিল দিতে না পারায় ক্লিনিকের লোকজনই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মেরিস্টোপস ক্লিনিক এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়া জাহান বলেন, “ক্লিনিকের বিলের জন্য চাপ দেওয়া হলে নবজাতকের মা কৌশলে নবজাতককে সরিয়ে নিয়ে উল্টো আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। নবজাতককে যে অজ্ঞাত নারী নিয়ে গেছেন সে নারী তারই আত্মীয় হিসেবে এই ক্লিনিকে এসেছেন বলে অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনরাও জানিয়েছেন।” 

নরসিংদী সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ইমরান হাসান বলেন, “নবজাতক চুরির ঘটনায় নবজাতকের মা ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”