• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৪ দুপুর

ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশের মারধরের ঘটনায় রাবিতে উত্তেজনা

  • প্রকাশিত ১০:৪৪ রাত নভেম্বর ১৪, ২০১৯
রাবি পুলিশ
এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাবিতে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঢাকা ট্রিবিউন

পুলিশের মারধরের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিনোদপুর গেটে জড়ো হয়ে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরকে ঘেরাও করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হুমায়ন কবির নাহিদ নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। মারধরের খবর জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। 

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেটে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী হুমায়ন কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলের নাম মো. নাদিম।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাতটার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বিনোদপুর গেট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করছিলেন হুমায়ন। এসময় মতিহার জোনের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানা তাকে থামিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চাইলে কাগজপত্র না দেখিয়ে গাড়ির সামনের স্টুডেন্ট স্টিকার দেখান এবং নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন তিনি। কিন্তু, কাগজপত্র ছাড়া তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে বাধা দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে মোটর সাইকেলের কাগজপত্র দেখান। তবে হুমায়নের কাছে থাকা মোটরসাইকেলের কাগজপত্রে তার বড় ভাইয়ের নাম ছিল।

এরপর সহকারী কমিশনার হুমায়নকে থানায় নিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলে জোর করে মোটরসাইকেলে বসে থাকেন তিনি। এতে সহকারী কমিশনারের সঙ্গে নাহিদের বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সেখানে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মো. নাদিম হুমায়নকে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যান।

হুমায়নকে পুলিশের মারধরের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিনোদপুর গেটে জড়ো হয়ে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরকে ঘেরাও করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ঘটনাস্থলে আনা হয়। এ সময় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। 

পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু মতিহার জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মাসুদ রানা ও মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। আগামী তিন দিনে মধ্যে জড়িত পুলিশ কনেস্টবলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সহকারী কমিশনার।

জানতে চাইলে মতিহার থানার (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, একটা ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। মারধরকারী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, “পুলিশ আমাকে ঘটনাটি অনেক পরে জানিয়েছে। আমি ক্যাম্পাসের বাইরে আছি। তবে ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে দুইজন সহকারী প্রক্টরকে পাঠিয়েছি।”