• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

ঘূর্ণিঝড় সিডর: ১২ বছর পরেও ছন্দ ফেরেনি উপকূলবাসীর জীবনযাত্রায়

  • প্রকাশিত ১০:২৭ সকাল নভেম্বর ১৫, ২০১৯
সিডর
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে আঘাত হানে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডর। ছবি: ইউএনবি

সরকারি হিসেব অনুযায়ী সিডরে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৬ জন, নিখোঁজ ১ হাজার ৩ জন ও মারাত্মক আহত ৫৫ হাজার

আজ ১৫ নভেম্বর। ১২ বছর আগে ২০০৭ সালের এই দিনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হেনেছিলো সুপার সাইক্লোন সিডর। কেড়ে নিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ ও পশু-পাখির প্রাণ। নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলের জমি, ক্ষতি হয়েছে গাছপালার। বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। মৃত্যু ভাসিয়ে নিয়েছে আপনজনদের। সিডরের ১২ বছর পরও সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি উপকূলবাসী। স্বাভাবিক হয়নি বরগুনাসহ সিডর বিধ্বস্ত উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা।

প্রলয়ঙ্কারী সিডরের পরবর্তী প্রভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে কাজের সুযোগ। খাবারের উৎস হারিয়ে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমশই এসব সংকট বেড়েই চলছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিডরের তাণ্ডবে বরগুনার বিভিন্ন নদীতে দেওয়া বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে গিয়েছিল। এখনও সেসব বেড়িবাঁধের অনেকগুলো ভাঙা থাকায় লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে ঢুকে বাড়াচ্ছে লবণাক্ততা। ফলে উপকূলীয় চরাঞ্চলের জমিতে ধান চাষ অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে দারিদ্র্যের পাশাপাশি এসব এলাকায় পরিলক্ষিত হচ্ছে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক প্রবণতা। মারাত্মকভাবে বাড়ছে শিশুশ্রম। 

উপকূলীয় এলাকার ১২ জেলায় সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হেনেছিল। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বরগুনা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলা। ঘূর্ণিঝড়টি তাণ্ডব চালিয়েছিল ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিতপুর, বরিশাল ও ভোলাতেও।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী সিডরে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৬ জন, নিখোঁজ ১ হাজার ৩ জন ও মারাত্মক আহত ৫৫ হাজার। 

এরমধ্যে শুধু বরগুনাতেই ১ হাজার ৩৪৫ জন নিহত হয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ১শ’৫৬ জন। তবে বেসরকারি হিসেব মতে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। আহতের সংখ্যা ২৮ হাজার ৫০ জন। 

জেলার ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬১ পরিবারের মধ্যে বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮৫ টি, ফসলের ক্ষতি হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৩ একর, গবাদি পশু মারা গেছে ৩০ হাজার ৪৯৯টি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ২৩৫, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ৪২০ কিলোমিটার। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্য আরো বেশি।

তাই ১৫ নভেম্বর দিনটিকে “অভিশপ্ত দিন” হিসেবে মনে করেন বরগুনাবাসী।

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন,  বরগুনাসহ সিডর বিধ্বস্ত উপকূলীয় জনপদে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উন্নয়নে ব্যাপক কাজ হলেও তার অধিকাংশ চলে গেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পকেটে। তাই সিডর বিধ্বস্ত এই জনপদের মানুষের মধ্যে ত্রাণ কিংবা ঋণ বিতরণ করা হলেও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তেমন কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, সিডরের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এতো সহজ নয়। তবে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ উপকূলের জনগণকে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে বলে আশা তার।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, সিডর বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। এর ক্ষতি অপূরণীয়। তবু সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করলে উপকূলবাসী কিছুটা হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।