• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪২ সকাল

নীলফামারীতে প্রকাশ্যে চলছে পাখি শিকার

  • প্রকাশিত ১১:২০ সকাল নভেম্বর ১৫, ২০১৯
নীলফামারী পাখি শিকার
নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর স্বাদুপানি মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের পাশে প্রকাশ্যে বন্দুক দিয়ে পাখি শিকার করা হচ্ছে ঢাকা ট্রিবিউন

বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পাখি শিকার ও নিধন দুটিই দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সচেতনতার অভাবে শিকারীদের ফাঁদে ধরা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি

কার্তিকের শেষ আর অগ্রহায়নের শুরুতে ধানক্ষেতে জমে থাকা পানিতে মাছ শিকার করে বিভিন্ন প্রজাতির বক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানিবক ও জটলা বক। এসময় আসতে শুরু করে অতিথি পাখিও। সব মিলিয়ে বছরের এই সময়টাতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি পাখির সমাগম হয় নীলফামারীতে। এই সুযোগে জেলার প্রায় সর্বত্রই জলাশয় ও ধানক্ষেতে ফাঁদ পেতে চলছে পাখি শিকার।

বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পাখি শিকার ও নিধন দুটিই দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সচেতনতার অভাবে শিকারীদের ফাঁদে ধরা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। শিকার করা পাখিগুলোকে ফেরি করে বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারে। পাখি শিকার ও নিধনের ফলে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

জেলা শহরের মিলন পল্লী এলাকায় বক শিকার করতে আসা হানিফ নামে এক শিকারী জানান, মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করেন তিনি। পাখি শিকার ও বিক্রি যে দণ্ডনীয় অপরাধ সেটা তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জনসচেতনতামূলক প্রচারণা নেই বলেও জানান মৌসুমি এই পাখি শিকারি।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ জানান, বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী পাখি শিকার এবং নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সচেতনতার অভাবে নানা প্রজাতির পাখি ধরছেন শিকারীরা। এসব পাখি ফেরি করে বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারে।

তিনি বলেন, এক শ্রেণির লোভী মানুষ পাখি শিকার করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করছেন। ভোর রাত থেকে তারা পাখি শিকার করে থাকেন। যা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এ বিষয়ে নীলফামারী বন কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান জানান, লোকবল সংকটের কারণে সবদিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া সরকারিভাবে পরিবহন সুবিধাও নেই। তারপরেও পাখি শিকার বন্ধে সতর্ক রয়েছেন তারা।

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, পাখি শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চলছে। কেউ যাতে পাখি শিকার ও বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।