• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ সকাল

হাসপাতাল থেকে ‘অভিনব’ কৌশলে নবজাতক চুরি, নারী গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ০১:২২ দুপুর নভেম্বর ১৫, ২০১৯
বগুড়া
বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা সদর থানায় শিশুটিকে তার বাবার কোলে তুলে দেন। ঢাকা ট্রিবিউন

অপরিচিত এক নারী ওবেদা বেগমের কাছে গিয়ে বলেন, বাচ্চাটি অসুস্থ, তাকে চিকিৎসা দিতে হবে

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের গাইনি বিভাগ থেকে চিকিৎসা দেওয়ার নামে চুরি হওয়া নবজাতককে উদ্ধার হয়েছে।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে চুরি হওয়া ওই নবজাতককে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে শাজাহানপুর উপজেলার লতিফপুর

মধ্যপাড়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় চুরির অভিযোগে রেশমা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

নবজাতকের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বগুড়ার কাহালু উপজেলার বেলঘড়িয়া গ্রামের সৌরভ সাকিদারে স্ত্রী নাহিদা বেগম গত বুধবার বেলা দেড়টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। প্রাথমিক পরিচর্যার পর নার্সরা শিশুটিকে তার মায়ের নানী শ্বাশুড়ি ওবেদা বেগমের কোলে তুলে দেন। এ সময় অপরিচিত এক নারী ওবেদা বেগমের কাছে গিয়ে বলেন, বাচ্চাটি অসুস্থ, তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। এ কথা বলে ওই নারী ওবেদার কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচতলায় নেমে ভিড়ের মধ্যে মিশে পালিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে শিশু চুরির ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তৎপরতা শুরু করে। এরইমধ্যে শিশুটির চাচা আবদুস সামাদ সদর থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেন।

মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল জলিল মন্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লতিফপুর মধ্যপাড়ার ফারুক হোসেনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় শিশুটিকে উদ্ধার ও চুরির অভিযোগে শাজাহানপুর

উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের রেশমা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা সদর থানায় শিশুটিকে তার বাবা সৌরভ সাকিদারের কোলে তুলে দেন। পরিবারের পছন্দে পুলিশ সুপার শিশুটির নাম রাখেন নাবিল সাকিদার। এ সময় পুলিশ সুপার প্রসূতি ও নবজাতকের পোষাক, কিছু খাবার-দাবার এবং ব্যক্তিগতভাবে ১০ হাজার টাকা উপহার দেন।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজা জানান, “নবজাতককে উদ্ধারের পাশাপাশি চুরির সাথে জড়িত রেশমা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশু নাবিল সাকিদারকে চুরির ঘটনায় রেশমাকে আদালতের মাধ্যমে

রিমান্ডে নেওয়া হবে।”