• বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

সৌদি থেকে ফিরলেন ভিডিওতে বাঁচার আকুতি জানানো সুমি

  • প্রকাশিত ০৭:১১ রাত নভেম্বর ১৫, ২০১৯
সুমি
ভিডিওতে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানানো সুমি আক্তার সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। সংগৃহীত

ভিডিওতে সুমি বলেন, 'ওরা আমারে মাইরা ফালাইব'

ভিডিওতে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে আলোচিত সুমি আক্তার অবশেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৭টায় এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা পৌঁছান।

সেই সঙ্গে সৌদিতে চলমান ধরপাকড়ের শিকার হয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে দেশে এসেছেন আরও ৮৬ বাংলাদেশি।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সুমিকে গ্রহণ করেন। এসময় প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখানে আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনে সহযোগিতা করেন।

পরে সুমিকে বিমানবন্দর থেকে বের করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের একটি দল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গাড়িতে করে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এসময় সুমির স্বামী নুরুল ইসলাম বিমানবন্দরে এলেও তাকে সুমির সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সুমির বাড়ি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বৈরাতি সেনপাড়া গ্রামে। 

গত ৩০ মে রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স রূপসী বাংলা ওভারসিজের মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবে যান সুমি। সেখানে নির্যাতনের শিকার সুমির আকুতির ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনায় তার স্বামী নুরুল ইসলাম রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ভিডিওতে সুমি বলেন, "ওরা আমারে মাইরা ফালাইব। আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। আর কিছু দিন থাকলে আমি মরে যাব।"

থানায় জিডি করার পর ২২ অক্টোবর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ করেন নুরুল। সেই সঙ্গে তিনি স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফেরত আনতে ২৭ অক্টোবর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্র্যাকের সহায়তায় ২৯ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়। পরে জেদ্দা কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে সুমিকে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

শুরুতে সুমির নিয়োগকর্তার দাবি করা ২২ হাজার সৌদি রিয়াল পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে "ফাইনাল এক্সিট" অর্থাৎ দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। তবে পরে নাজরান শহরের শ্রম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল ইসলাম বলেন, "সৌদি আরবে সুমির মতো কতোজনের দুরবস্থা চলছে সে তথ্য কারো কাছে নেই। আমাদের দূতাবাসের বা সরকারেরও নজরদারির কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাদের রাষ্ট্রদূত বললেন, যে ১৩ হাজার মেয়ে চার বছরে ফিরে এসেছে। কতোজন আরও বিপদে আছে আমরা জানি না। তবে সুমিকে উদ্ধারের ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো-কোনোভাবে যদি তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, তাহলে তাদের সত্যিকারের অবস্থাটা জানাতে পারেন।"

নারী কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "আটবছর আগে যখন সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানোর কথা ওঠে, তখন থেকে একটা দাবি ছিল যে নারী কর্মীরা যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন। সরকার সেই প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে নারীদের পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। ফলে বিপদে পড়লেও কাউকে জানাতে পারেন না। অথচ শুধু যদি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেত। এই যে গত চারবছরে ১৫২ জন মেয়ে মারা গেলেন, তাদের ৬৬ জন আত্মহত্যা করলেন, শুধু এবছরেই ৫৩ জন নারীর লাশ আসল, তাদের কেউ কেউ হয়তো বেঁচে যেতেন।"

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে করে দেশে এসেছেন আরও ৮৬ বাংলাদেশি। বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে ১ হাজার ৬৪৭ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।