• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

বান্দরবানে আবার মিললো হাতির মরদেহ

  • প্রকাশিত ০৮:৩১ রাত নভেম্বর ১৬, ২০১৯
হাতিশাবকের মরদেহ
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ১৬ নভেম্বর একটি বন্য হাতিশাবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।ঢাকা ট্রিবিউন

প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার বলেন, 'মৃত হাতিটির শুঁড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে'

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ১০ দিনের ব্যবধানে আরও একটি বন্য হাতিশাবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হাতিশাবকটির বয়স আনুমানিক আড়াই থেকে তিন বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি চাককাটার ঝিরিতে হাতিটির মৃতদেহ পাওয়া যায়। 

এর আগে গত ৫ নভেম্বর লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা এলাকার একটি মৎস্য প্রকল্পে পানিতে ভাসমান অবস্থায় একটি হাতির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। 

জানা গেছে, শনিবার সকালে কুমারী চাককাটার ঝিরিতে হাতিটির মৃতদেহ দেখে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. আলমগীর চৌধুরী ও বন বিভাগ কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। পেয়ে বন বিভাগের সদর রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন খান, ইপি চেযারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

জানা গেছে, বিভিন্ন সময় গভীর জঙ্গল থেকে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে হাতির পাল ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, মানুষ ও বাগানের ক্ষয়ক্ষতি করে থাকে। এ থেকে রক্ষা পেতে বাগান ও ফসলি জমির চারপাশে বিদ্যুতের ফাঁদ পেতে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করতো স্থানীয়রা। ওই ফাঁদে পড়ে হাতিশাবকের মৃত্যু হতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। 

তবে স্থানীয়রা জানান, সম্ভবত হাতি শাবকটি রোগাক্রান্ত ছিল। এতেই সেটির মৃত্যু হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার বলেন, "মৃত হাতিটির শুঁড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এটির প্রাথমিক সুরতহাল ও নমুনা সংগ্রহ করে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো চট্টগ্রাম পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে হাতিটিকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।"

এবিষয়ে লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এর আগে ২০১৪ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে লামা উপজেলার একই এলাকার রহমত উল্যাহর রাবার বাগান থেকে একটি, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে গজালিয়া ইউনিয়নের হাইমারা ঝিরি থেকে একটি, ইয়াংছা এলাকার সেলিমুল হক চৌধুরীর বাগান থেকে ২০০৪ সালে একটি হাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।