• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১৭ সন্ধ্যা

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণ: ভবন ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, গ্যাসের রাইজারের পাশে সেপটিক ট্যাঙ্ক

  • প্রকাশিত ১০:৩১ রাত নভেম্বর ১৭, ২০১৯
আজাজারি
কোলে ছোট ছেলে, ফোনে বড় ছেলে ও স্ত্রীর মৃত্যুর খবর দিচ্ছেন আইনজীবী আতাউর রহমান। ফোকাস বাংলা

সেখানে গিয়ে দেখি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়ে আছে আমার চাচী ও বোন

চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটায় একটি বাড়িতে রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণ ও দেয়াল ধসে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সাথে কথা বলেন চটগ্রাম ফায়ার সার্ভিসে উপ-সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি। তিনি বলেন, যে ভবনে এই ঘটনা ঘটেছে সেটি আগে থেকেই ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল।

পূর্ণ চন্দ্র বলেন, "আমরা আগেই এই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছিলাম। নোটিশে এই ভবনের বাসিন্দা ও পথচারীদের এই ব্যাপারে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছিল।"

বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, "গ্যাসের রাইজারগুলোকে সব খোলা জায়গায় রাখতে বলা হয়। কারণ রাইজার থেকে সব সময়ই কিছু না কিছু গ্যাস বেরোতে থাকে। তাই খোলা জায়গায় রাখলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু এক্ষেত্রে রাইজার স্থাপন করা হয়েছে ভবনের একদম ভিতরে। কাজেই সেখানে গ্যাস জমা হয়েছে। দরজা জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হওয়ারও কোনও সুযোগ ছিল না। এর মধ্যেই আবার কেউ চুলা জ্বালাতে গিয়েছিল। সেখান থেকেই এই বিপত্তি।"

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান ঘটনার পর ভবনটি পরিদর্শন করেন। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, "গঠনগত দিক দিয়ে ভবনটি মোটেও মজবুত ছিল না। ভবনে কাঠামো নির্মাণের সময় কোনো নিয়ম মানা হয়নি। ইউটিলিটি সার্ভিসের লাইনগুলোও সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়নি। সেপটিক ট্যাংক ও গ্যাস রাইজার পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে যা ভবনটির ঝুঁকির মাত্রা কজয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।" স্থানীয় কাউন্সিলর ইসমাইল বালি জানান, দিনের ব্যস্ত সময়ে বিস্ফোরণ ঘটায় ক্ষতিটা বেশি হয়েছে।

ওই ভবনের বাসিন্দা সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অর্ণব কুমার নাথের বোন ও চাচী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। অর্ণব জানায়, "আমরা ওই ভবনের নিচের তলায় থাকি। সকালে নাস্তা কেনার জন্য আমি বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাই। হঠাৎ করেই একটা বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে বাড়ি ছুটে যাই আমি। সেখানে গিয়ে দেখি ভবনের দেয়াল ধসে পড়েছে। আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়ে আছে আমার চাচী ও বোন। তারা দুজনই গুরুতর আহত হয়েছেন।"    

'আমার সব শেষ'

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে নিজের স্ত্রী ফারজানা ও শিশু সন্তান শুভকে হারিয়েছেন আইনজীবী আতাউর রহমান। হাসপাতালে বসে কাঁদতে কাঁদতে ফোনে স্বজনদের কাছে নিজের স্ত্রী ও পুত্রের মৃত্যু সংবাদ পৌঁছে দিচ্ছিলেন তিনি।

রবিবার সকালে বড় ছেলে শুভকে শিক্ষকের বাসায় পড়াতে নিয়ে যাচ্ছিলেন মা ফারজানা। শুভ দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। শিক্ষকের বাসায় যাওয়ার পথে ওই ভবনটি অতিক্রম করার সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে ভবনের দেয়ালের এক অংশ তাদের উপর পড়ে। ঘটনাস্থলেই মারা যান মা ও ছেলে।