• বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

‘সবাই তিনশ’ টাকা করে না দিলে পরীক্ষায় ফেল!’

  • প্রকাশিত ০৮:৫৫ রাত নভেম্বর ১৮, ২০১৯
দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়
কেন্দ্র সচিব ও দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি রায়সহ বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ এনে ইউএনও বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়

কেন্দ্র সচিব ও দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি রায়সহ বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ এনে ইউএনও বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়

 “হাবিবুর স্যার বলেছে, সবাইকে তিনশ’ টাকা করে দিতে হবে, তা না হলে পরীক্ষায় পাস করে দেওয়া হবে না!’ জেএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ের এমন উদ্ধৃতি উল্লেখ করে, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ তুলে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগপত্র দিয়েছেন এক অভিভাবক। 

কেন্দ্র সচিব ও দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি রায়সহ ওই বিদ্যালয়ের দুইজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনে ইউএনও বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. হযরত আলী।

তিনি তার অভিযোগপত্রে বলেন, “বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব উৎপল কান্তি সরকার তথ্য প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেবেন বলে গত ১০ নভেম্বর শিক্ষার্থী প্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করে তা আত্মসাত করেন। তার এই কাজে তাকে সহায়তা করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, আমিনুল ইসলাম ও কর্মচারি মো. আব্দুল হাকিম।”

অভিযোগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত টাকা আদায় নিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি আদায়কৃত টাকা ফেরত দেবার আশ্বাস দিলেও শেষপর্যন্ত তা কোনও শিক্ষার্থীকে ফেরত দেননি। এনিয়ে অভিভাবকদেও মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন এই সদস্য।

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে ৩শ’ টাকা করে আদায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে প্রায় দুই শতাধিক জেএসসি পরীক্ষার্থীর কাছে ৩শ’ টাকা করে আদায় করা হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনও পরীক্ষা নেওয়া হবে না, শুধু নাম্বার পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এটা রীতিমত শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারনা বলে দাবি করেন ওই শিক্ষক। এর আগে এই জেএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের সময়ও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও জানান এই শিক্ষক।

দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার বলেন, “বিষয়টি ঠিক নয়। প্রতিটা প্রতিষ্ঠান যেমন নেয় তেমনি ২০/৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এর বেশি নয়।”

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাদের বলেন, এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।