• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৬ বিকেল

শেরপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

  • প্রকাশিত ০৯:১৬ রাত নভেম্বর ১৮, ২০১৯
বিএসএফ
বাংলাদেশ সীমান্তে টহলরত বিএসএফ। ফাইল ছবি এএফপি

এক পর্যায়ে বিএসএফ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।  এতে উকিল মিয়া ও খোকন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষীর বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। 

রবিবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে সীমান্তের মারিং পাড়ার ১০৯১ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উকিল মিয়া (৩০) ও খোকন মিয়া (২৫)। এ ঘটনায় সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে সীমানার ১০৯১ ও ১০৯২ পিলার সংলগ্ন কুমারগাতি ও পানবাড়ি এলাকা থেকে নিহত দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন ধরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুমারগাতি ও পানবাড়ির ১০৯১ ও ১০৯২ পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে গরু চোরাচালান হচ্ছে। রবিবার রাতে একদল চোরাকারবারি ভারতের মারিংপাড়া এলাকা দিয়ে চোরাই পথে গরু নিয়ে আসার সময় বিএসএফ তাদেরকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে বিএসএফ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।  এতে উকিল মিয়া ও খোকন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়। পরে আহত অবস্থায় উকিল মিয়ার সহযোগিরা তাকে নিয়ে পানবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়। এ সময় উকিল মিয়ার মরদেহ জঙ্গলে ফেলেই পালিয়ে যায় তার সহযোগিরা। অপরদিকে একই ঘটনায় খোকন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মারিংপাড়া ব্রীজের নিচে পড়ে মারা যায়। সোমবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিজিবি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুপুরে উকিল মিয়া ও বিকালে খোকন মিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক মজনু বলেন, “স্থানীয় কিছু লোক গরু চোরাকারবারিদের সাথে রাতে চোরাইভাবে গরু নিয়ে আসার সময় বিএসএফের গুলিতে ওই দুইজন নিহত হয়েছে।”  

এদিকে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শহিদুল হক।

বৈঠকের পর বিজিবির কর্ণঝোড়া ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার খন্দকার আব্দুল হাই বলেন, “এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাওয়া হয়েছে। বিএসএফ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে বিএসএফের পক্ষ থেকে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”