• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

শিক্ষকের ঠোঁট কামড়ে ছিঁড়ে নিলেন আরেক শিক্ষক!

  • প্রকাশিত ০১:১৮ দুপুর নভেম্বর ১৯, ২০১৯
মাগুরা

চিকিৎসক জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিক্ষককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন

মাগুরার শালিখা উপজেলায় এক শিক্ষকের ঠোঁট কামড়ে ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিএসসি) হলে নিজ স্কুলের ছাত্রীদেরকে অন্য স্কুলের এক শিক্ষক “বেয়াদব” বলা জেরে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন উপজেলার মশাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জ্বল মজুমদার। ভুক্তভোগী শিক্ষক হলেন নাঘোষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রীপতি বিশ্বাস।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ধনেশ্বরগাতি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষককে।

স্থানীয়রা জানান, চলমান পিএসসি পরীক্ষায় শালিখা উপজেলার থৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে অংশ নিচ্ছে একই উপজেলার মশাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষাকেন্দ্রের যে কক্ষে মশাখালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছিলো সেখানে সোমবারের বাংলা পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন নাঘোষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রীপতি বিশ্বাস। পরীক্ষা চলাকালীন উচ্চস্বরে কথা বলায় তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বকাঝকা করেন। পরীক্ষা শেষে ওই শিক্ষার্থীরা বিষয়টি তাদের শিক্ষক উজ্জ্বল মজুমদারকে জানান। এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় স্থানীয় ধনেশ্বরগাতি বাজারে শ্রীপতি বিশ্বাসকে পেয়ে তার ওপর চড়াও হন উজ্জ্বল।

আহত শিক্ষক শ্রীপতি বিশ্বাস বলেন, মশাখালি স্কুলের শিক্ষক উজ্জ্বলের সঙ্গে আমার কাকা-ভাতিজার সম্পর্ক। কোনোরকম বিরোধও ছিল না। অথচ তার স্কুলের শিক্ষার্থীদের বকাঝকা করার কারণে সে কামড়ে আমার ঠোঁট ছিঁড়ে নিয়েছে।

হামলার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক উজ্জ্বল মজুমদার বলেন, তিনি (শ্রীপতি) শুধু শিক্ষার্থীদেরকেই বেয়াদব বলেননি। আমাদের স্কুলের শিক্ষকদেরকেও বেয়াদব বলে গালমন্দ করেছেন।

তবে কামড়ে ঠোঁট ছিঁড়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, মারামারির সময় পড়ে গিয়ে ঠোঁট কেটে যেতে পারে।

এ বিষয়ে মাগুরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অমর প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, “তার মুখের অনেকটা জায়গাজুড়ে ক্ষত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন।”

শালিখা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রের ঘটনার জেরে নয়, ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।