• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৬ রাত

গোপালগঞ্জে গুজব: লবণের কেজি হবে ২০০ টাকা

  • প্রকাশিত ০৪:০২ বিকেল নভেম্বর ১৯, ২০১৯
লবণ কেনার হিড়িক
২০০ টাকা হবে লবণের কেজি-এমন গুজাবে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর বাজারে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে।ঢাকা ট্রিবিউন

এ গুজবের জের ধরে হঠাৎ করে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে যায়

২০০ টাকা হবে লবণের কেজি-এমন গুজাবে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর বাজারে লবণ কেনার হিড়িক পড়েছে। বাজারের অর্ধশতাধিক পাইকারি ও খুচরা দোকানে লাইন দিয়ে ক্রেতাদের লবণ কিনতে দেখা গেছে। এর জের ধরে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ে নামতে হয়েছে। 

সরেজমিনে জানা গেছে, গত সোমবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত থেকে উপজেলায় লবণের কেজি ২০০ টাকা হবে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ঘাঘর বাজারে লবণের ডিলার, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে লবণ ক্রয়ের জন্য ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। 

দুপুর ১২টার মধ্যে ডিলার ও অনেক পাইকারির ব্যবসায়ীর গোডাউন লবণশূণ্য হয়ে যায়। হঠাৎ করে এভাবে লবণ ক্রয়ের কারণে অনেক ডিলার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। 

লবণের ডিলার মধুমতি স্টোরের মালিক জালাল শেখ বলেন, "একটি গুজবের ওপরে ভর করে মানুষ হঠাৎ এভাবে লবণ ক্রয় শুরু করেছে। আমরা পূর্বের দামেই লবণ বিক্রি করছি। এই মূহুর্তে দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই।" 

পাইকারি ব্যবসায়ী গনেশ সাহা বলেন, "সকাল থেকেই আমাদের দোকানে লবণ ক্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষ ও খুচরা বিক্রেতারা ভিড় করছে। দুপুর ১২টার মধ্যে আমাদের দোকানের সমস্ত লবণ বিক্রি হয়ে যায়।" 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা নাগরা গ্রামের এক ভ্যানচালক বলেন, "গতকাল রাতে ঢাকা থেকে আমার এক আত্মীয় ফোন করে আমাকে জানিয়েছেন লবণের, কেজি ২০০ টাকা হবে। তাই মঙ্গলবার সকালে এসেই ঘাঘর বাজার থেকে ১০ কেজি লবণ ক্রয় করেছি।" 

উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মহসিন উদ্দিন বলেন, "লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজবের কারণে ঘাঘর বাজারে মঙ্গলবার সকাল থেকেই লবণ ক্রয়ের হিড়িক পড়ে যায়। খবর পেয়ে আমরা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজারে ছুটে আসি। প্রত্যেক ডিলারকে বলে দিয়েছি, পূর্বে তারা ব্যবসায়ীদের কাছে যে পরিমাণ লবণ বিক্রি করতো এখন সেই পরিমাণ বিক্রি করতে হবে। এছাড়া খুচরা বিক্রেতাদেরকে  এক থেকে দুই কেজির ওপরে লবণ বিক্রি করতে নিষেধ করেছি।" 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, এ মূহুর্তে লবণের কোনো সংকট নেই। তাই দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভবনাও নেই। যদি কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী বাজার মূল্যোর চেয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রি করে তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।