• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ভবন, শ্রেণিকক্ষ বা শিক্ষার্থী কিছুই নেই, তবুও এমপিওভুক্ত কলেজ

  • প্রকাশিত ০৯:১৮ রাত নভেম্বর ২১, ২০১৯
সিরাজগঞ্জ
এমপিওভুক্তির পর কলেজটির সাইনবোর্ড লাগানো হয়। ইউএনবি

কাগজে-কলমে কলেজটির অস্তিত্ব দেখানো হলেও বাস্তবে কিছুই ছিল না

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে হলে বেশ কিছু নীতিমালা মানতে হয়। তবে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান এবার এমপিওভুক্তির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে যেগুলো নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সেসব প্রতিষ্ঠানের কাগজে কলমে অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আর এমনই একটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ মিলেছে সিরাজগঞ্জে। যার শ্রেণিকক্ষ, টেবিল, বেঞ্চ এমনকি শিক্ষার্থীও নেই।

অস্তিত্বহীন এই প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায়। নাম বাগবাটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেজ ম্যানেজম্যান্ট কলেজ।

এমপিওভুক্ত হওয়ার পর রাতের আঁধারে বাগবাটি ইউনিয়নের চর নান্দিনা গ্রামে সাইনবোর্ড বসানো, ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কাগজে-কলমে কলেজটির অস্তিত্ব দেখানো হলেও বাস্তবে কিছুই ছিল না।

কলেজের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করা হতো, তা স্থানীয়রা এখনও জানতে পারেননি। কাগজে-কলমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা কার্যক্রম চললেও বাস্তবে সব চিত্রই উল্টো।

এমপিওভুক্তির নীতিমালা না মেনে কীভাবে এই প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির নামের তালিকায় আসে, এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের। এ নিয়ে সিরাজগঞ্জের শিক্ষক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের চর নান্দিনা গ্রামে রাস্তার ধারে নতুন একটি সাইনবোর্ড। যেখানে লেখা আছে বাগবাটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ এদিকে।

সাইনবোর্ডের রাস্তা ধরে ২০০ গজ এগিয়ে গিয়ে দেখা যায় ৫/৬ জন কাঠমিস্ত্রী একটি পুরানো ভিটায় টিনের ঘর তোলার কাজ করছেন। ৬ জনের সাংবাদিকদের একটি টিম লেবারদের এটা কী হচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে শ্রমিকরা বলেন, “বাগবাটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেজ ম্যানেজম্যান্ট কলেজটি সরকারি হয়েছে তাই এই ভিটায় ঘর স্থাপন করা হবে, এটা কলেজ হবে।”

গাছ কেটে কলেজের ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। ছবি: ইউএনবি

এর মধ্যেই আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক দাবি করে এগিয়ে এসে বলেন, “আমি কাগজ কলমে এই কলেজের কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে ১৬ বছর হলো চাকরি করছি। এবার আমাদের কপাল খুলেছে। তাই আমরা কলেজের ঘর তৈরি করছি।”

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক এগিয়ে এসে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সব জায়গায় টাকা দিয়ে আগে কলেজ এমপিও করেছি। এখন ঘর তুলবো এবং ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করবো।” এগুলো নিয়ে লেখালেখি করে কী লাভ? পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, বেশ কয়েক বছর আগে ভাড়া ঘরে ওই প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড দেখা গিয়েছিল। গত কয়েক বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম দেখতে পাননি তারা। কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তি তালিকায় গেল, সেটিই বড় প্রশ্ন।

স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলায় এমপিওভুক্ত হওয়ার যোগ্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলো না করে নিজস্ব জায়গা ও অবকাঠামো না থাকলেও নামসর্বস্ব বাগবাটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ভুয়া প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন এলাকাবাসী।

বাগবাটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. এশারত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “কলেজের জায়গা, কাগজপত্র ঠিক আছে বলেই বাগবাটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজটি এমপিও হয়েছে। এখন আমরা ঘর নির্মাণ করছি, এক মাসের মধ্যে আমরা খালি জায়গায় কলেজ বানিয়ে ফেলব।” তবে এ বিষয়ে লেখালেখি না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি ।

এ ব্যাপারে ঢাকার কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরিদর্শক প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, “কোনো মাটির ভিটা বা খালি জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠান কাগজ কলমে এমপিও হতে পারে না। এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল হয়ে যাবে।”