• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৮ সকাল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পরিবহন শ্রমিকদের দাবি খতিয়ে দেখা হবে

  • প্রকাশিত ১১:১০ রাত নভেম্বর ২১, ২০১৯
পরিবহন শ্রমিক
বুধবার (২০ নভেম্বর) রাস্তার মধ্যে বাস রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। ফোকাস বাংলা

‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা যদি আবারও রাস্তায় নামে তবে, পুলিশ, গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের পিঠের চামড়া থাকবে না’

পরিবহন শ্রমিকদের ৯ দফা দাবিতে কোনো অসঙ্গতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে “ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

বুধবার পরিবহন শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়ে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “দাবিগুলোর মধ্যে কোথাও অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে এবং পরবর্তী সময়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তাদের দাবি-দাওয়া আমরা আলোচনা করেছি। চালকদেরকে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য আগামী বছরের (২০২০ সাল) ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “একজন বাস বা ট্রাক চালককে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে হয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তার বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। সড়কে চালকদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।”

আসাদুজ্জামান খাঁন আরও বলেন, “অনেকেই আইন মানতে চান না। কিন্তু যদি প্রত্যেকেই আইন মেনে চলেন তবে কোনো সমস্যা (সড়কে) হওয়ার কথা নয়। শুধু ট্রাফিক আইনই নয়, প্রত্যেকের জায়গা থেকে যদি আইন মেনে চলে তবে এমনিতেই অপরাধ কমে যাবে। আমরা এমন একটি সংস্কৃতি নির্মাণ করতে চাই যেখানে সবাই আইন মেনে চলবে।”

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা যদি আবারও রাস্তায় নামে তবে, পুলিশ, গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের পিঠের চামড়া থাকবে না। সুতরাং সবাই সতর্কে হন, আইন মেনে চলুন।”

মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, “যখন আইন প্রয়োগ করা হয় তখন অনেক ‘প্রভাবশালী ব্যক্তি’ দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির হুমকি দেন। কিন্তু সড়কে আইন প্রয়োগ করার জন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হবে না।”

তিনি বলেন, “রাস্তায় যে কোনো সমস্যার জন্য সকলেই ট্রাফিক পুলিশকে দায়ী করে থাকে। কিন্তু রাস্তায় ট্রাফিক শৃঙ্খলায় দায়িত্বে পুলিশ ছাড়াও সিটি করপোরেশন, রাজউক, বিআরটিএ এর মতো আরো কয়েকটি সংস্থা কাজ করে।”

আইজিপি আরও বলেন, “একটি শহরের আয়তনের অন্তত ২০ শতাংশ জায়গা রাস্তা থাকতে হয়। কিন্তু ঢাকায় রয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। তারপরও সেখানে নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। কিন্তু ড্রাইভাররা সেটি মানেন না।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, “একটি সুযোগ সন্ধানী গোষ্ঠী শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে চাচ্ছে।”

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বেলুন উড়িয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) “ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ” উদ্বোধন করেন। ২১ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিনব্যাপী চলবে এই পক্ষ।