• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে দিলেন স্বামী

  • প্রকাশিত ০৬:৩৮ সন্ধ্যা নভেম্বর ২২, ২০১৯
নির্যাতন
প্রতীকী ছবি।

এই ঘটনায় স্বামী মোরশেদুলকে গ্রেফতার করা হলেও পলাতক রয়েছেন নির্যাতিতা গৃহবধূর শ্বশুর ও শাশুড়ি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে দিয়ে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগে মোরশেদুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার মোরশেদুল পেশায় একজন ট্রাকচালক।

শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবীর। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, প্রায় নয় মাস আগে বিয়ে করেন মোরশেদুল। বিয়ের সময় তাকে নগদ দেড় লাখ টাকা ও অন্যান্য জিনিস যৌতুক দেওয়া হয়। বিয়ের পর পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি। এ জন্য তিনি স্ত্রীর পরিবারের কাছে আরও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। কিন্তু যৌতুক না পাওয়ায়  গৃহবধূকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন মোরশেদুল ও তার মা।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই গৃহবধূর হাত থেকে একটি আঁচারের বয়াম পড়ে ভেঙে যায়। এ নিয়ে শ্বাশুড়ির সাথে বচসা হয় ওই নারীর। বিকেলে মোরশেদুল বাড়ি ফিরে ঘটনাটি শুনে স্ত্রীর উপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে ব্লেড দিয়ে স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে দেন তিনি। পরে তার মা নির্যাতিতা গৃহবধূকে ঘরে আটকে রাখেন। এদিকে এক সুযোগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজের মাকে ঘটনার কথা জানান ওই গৃহবধূ।

ফোন পেয়ে পরদিন সকালে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেয়েকে উদ্ধার করেন ওই গৃহবধূর মা। খবর পেয়ে মোরশেদুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে, এর আগেই বাড়ি থেকে পালিয়ে ওই গৃহবধূর শ্বশুর ও শাশুড়ি।

শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনায় মোরশেদুল ও তার বাবা-মাকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতার মা।  

নন্দীগ্রাম থানার ওসি শওকত কবীর বলেন, "গ্রেফতার মোরশেদুলকে শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।"