• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৭ সন্ধ্যা

প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদী

  • প্রকাশিত ০৬:৪০ সন্ধ্যা নভেম্বর ২২, ২০১৯
ঝিনাইদহ/নবগঙ্গা
কচুরিপানা পরিষ্কারের পর নবগঙ্গা নদী। ঢাকা ট্রিবিউন

নদী পরিষ্কার হলে সদর উপজেলার ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রামের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। রক্ষা পাবে নদীতে থাকা দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জীব-বৈচিত্র্য

দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদী। সংস্কার, বেদখল আর কচুরিপানার কারণে নাব্যতা হারাতে বসেছিল নদীটি।

অবশেষে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় অপসারণ করা হয়েছে নদীর কচুরিপানা। এতে নদীটি ফিরে পেয়েছে আগের রূপ। তবে সংস্কার ও দখলমুক্ত করলে নদীটি আগের গতি ফিরে পাবে বলে দাবি নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।

জানা যায়, সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নজুড়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীতে কচুরিপানা জমেছিল দীঘির্দন। নাব্যতা না থাকায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথও বন্ধ হয়ে যায়। একারণে প্রতিবছর নদী দখল হয়ে যাচ্ছিল। চলতি বছর নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনতে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম। কর্মঠ এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে সাড়া দিয়েছে স্থানীয় মানুষ। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্যজীবিদের সহযোগিতায় চলতি মাসের শুরুর দিকে শুরু হয় এ অভিযান। ইতোমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার নদীর কচুরিপানা।

এলাকাবাসী মনে করেন, নদী পরিষ্কার হলে সদর উপজেলার ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রামের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। নদীতে থাকা দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

নদী বাঁচাতে কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযান শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ লিল্টন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, নদীটিতে গত ১৫-২০ বছর আগে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা নদীতে খেয়া ফেলে মাছ শিকার করত। কিন্তু কচুরিপানার কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়ে পড়ে। কচুরিপানা পরিষ্কারের জন্য যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এতে আশা করছি নদীটিতে আগের মত মাছ পাওয়া যাবে।

শহরের ভুটিয়ারগাতি এলাকার মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর সাত্তার বলেন, নদীর কচুরিপানার পরিষ্কার করার কারণে নদীটির স্বাভাবিক গতিপথ ফিরে পেয়েছে। এতে উপকার হয়েছে গরীব অসহায় মৎস্যজীবীদের। এ জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এ ধরনের উদ্যোগ সকল উপজেলায় গ্রহণ করা হলে জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো আগের রূপ ফিরে পাবে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম বলেন, “জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ স্যারের নির্দেশনায় ‘নবগঙ্গা বাঁচাও’ শ্লোগানকে সামনে রেখে সদর উপজেলার নবগঙ্গা, বেগবতি ও ভৈরব নদের কচুরিপানা পরিষ্কারের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে নবগঙ্গার কচুরিপানা পরিষ্কার করা হচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষ ও মৎস্যজীবিদের সুবিধা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে এই উদ্যোগ।”