• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা ঘোষণার দাবি

  • প্রকাশিত ১২:৪৭ দুপুর নভেম্বর ২৩, ২০১৯
শ্রীমঙ্গল চা বাগান
শ্রীমঙ্গল চা বাগান সৈয়দ জাকির হোসাইন/ঢাকা ট্রিবিউন

চা শ্রমিকনেতা সীতারাম বীন বলেন, ২০১৮ সনের ৬ অক্টোবর চুক্তি মোতাবেক চা শ্রমিকদের মজুরি ৮৫ টাকা থেকে মাত্র ১৭ টাকা বৃদ্ধি করে ‘এ ক্লাস’ বাগানে দৈনিক ১০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান সময়ে ১০২ টাকা মজুরিতে চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা পাঁচ, সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে জীবনধারণ সম্ভব হচ্ছে না

দৈনিক  মজুরি ১০২ টাকা থেকে ৩০০ টাকা মজুরি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা নেতারা। তাদের দাবি, ১০২ টাকা মজুরি দিয়ে চা বাগানের পাঁচ, সাত সদস্যের শ্রমিক পরিবার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশের চা শিল্প দেড়শ’ বছর পার করতে যাচ্ছে কিন্তু এই দেড়শ’ বছরে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দেড়শ’ টাকাও হয়নি। উপযুক্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান- সব ক্ষেত্রে চা শ্রমিকরা বঞ্চিত। চা বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত সরকারি স্কুল নেই, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, ঠিকমত খাবার পায় না, অথচ এই চা শ্রমিকদের শ্রমে ঘামে দেশের চা শিল্প আজ এতদূর এগিয়ে গেছে।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) কমলগঞ্জের শমশেরনগরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মত-বিনিময়কালে এমনটাই জানিয়েছেন, চা শ্রমিক নেতা শমশের নগর চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শ্রীকান্ত কানু, চা শ্রমিক নেতা লছমন মাদ্রাজী, শমশেরনগর ইউনিয়নের নারী সদস্য নমিতা সিং, নারী নেত্রী মেরী রাল্ফ, মণি গোয়ালা, মাধবপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা রাম সিং, সুনছড়া চা বাগানের চা শ্রমিক নেতা সঞ্জয় কৈরী, চা শ্রমিক নেতা প্রতাপ রিকিয়াসন, সন্দিপ গোয়ালা, সন্দীপ বীন প্রমুখ।

চা শ্রমিকনেতা সীতারাম বীন বলেন, বাংলাদেশে চা শিল্পে নিয়োজিত চা শ্রমিকরা যুগযুগ ধরে অবহেলিত। চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি করায় গত ২০১৮ সনের ৬ অক্টোবর চুক্তি মোতাবেক চা শ্রমিকদের ৮৫ টাকা থেকে মাত্র ১৭ টাকা বৃদ্ধি করে “এ ক্লাস” বাগানে দৈনিক ১০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর “বি” ও “সি” ক্লাস বাগানে মজুরি আরও কিছুটা কম। মজুরি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ মাস পর এই মজুরি বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমান সময়ে ১০২ টাকা মজুরিতে চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা পাঁচ, সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে জীবন ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। রেশনও পর্যাপ্ত নয়। সপ্তাহে রেশন দেওয়া হয় নিম্মমানের ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম আটা বা চাল। শ্রম আইন ও শ্রম বিধি অনুযায়ী আমাদের চা শ্রমিকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেখান থেকেও সুকৌশলে চা বাগানে নিরক্ষর সাধারণ শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

ফলে চা বাগান শ্রমিক পরিবার সদস্যরা ন্যূনতম খাবার খেয়ে জীবন ধারণের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দৈনিক মজুরি দেওয়ার দাবি উঠছে।

চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আরো জানান, ২০০৯ সালে তৎকালীন শ্রমমন্ত্রী দৈনিক ১৫০ টাকা, ২০১৪ সালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ২০০ টাকা, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন। সেই প্রস্তাব বিবেচনায় আনতে সরকারের কাছে দাবি করা হয়।

সরকারের সার্বিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে চা শ্রমিকদের বাঁচার মতো ন্যূনতম ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি ঘোষণা করবে বলে প্রত্যাশা করেন চা শ্রমিক নেতারা।