• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৫৯ সন্ধ্যা

বছরে ৫০ কোটি টাকার নকল ব্যান্ডরোল, ব্যান্ডরোলবিহীন বিড়ি বিক্রি!

  • প্রকাশিত ০২:৪৪ দুপুর নভেম্বর ২৩, ২০১৯
বিড়ি
জামালপুরে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার নকল ব্যান্ডরোল ও ব্যান্ডরোল ছাড়া বিড়ি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ঢাকা ট্রিবিউন

সরকার প্রতিটি ব্যান্ডরোল ট্যাক্স ৭ টাকা ৮৩ পয়সা ও প্রতিটি বিড়ির প্যাকেট ন্যূনতম ১৪ নির্ধারণ করলেও জামালপুরে এসব ভুয়া কোম্পানি নকল ব্যান্ডরোলের বিড়ির প্যাকেট বিক্রি করছে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকা করে

জামালপুরে প্রায় সব হাট-বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নকল ব্যান্ডরোল ও ব্যান্ডরোল ছাড়া বিড়ির পেকেট। এসব বিড়ি অবাদে বিক্রি করছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু বিড়ি ব্যবসায়ী ও কিছু বিড়ি কোম্পানি এসব ব্যান্ডরোল ছাড়া বিড়ি বিক্রি করে রাতারাতি তারা কোটি কোটি টাকা আয় করছে। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। স্থাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে জনসাধারণ।

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জেলায় প্রায় ৪৯টি বিড়ি কোম্পানি তাদের নামে বেনামে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করেলেও মূলত ৩টি কোম্পানির বৈধতা রয়েছে। বাকি ৪৬টি বিড়ি কোম্পানি বৈধ কোনও কাগজপত্র নেই বললেই চলে। এসব নাম সর্বস্ব কোম্পানি গ্রামগঞ্জের হাট বাজারে নকল ব্যান্ডরোল ও ব্যান্ডরোল বিহীন বিড়ি বিক্রি করে যাচ্ছে সহসাই।

সরকার প্রতিটি ব্যান্ডরোল ট্যাক্স ৭ টাকা ৮৩ পয়সা ও প্রতিটি বিড়ির প্যাকেট ন্যূনতম ১৪ নির্ধারণ করলেও নামে বেনামের এসব ভুয়া কোম্পানি নকল ব্যান্ডরোলের বিড়ির প্যাকেট বিক্রি করছে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকা করে। আর এসব অসাধু ব্যবসায়ী ও কোম্পানির কারণে জামালপুর থেকে প্রতিমাসে ৪ কোটি ও বছরে ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

এদিকে দেখা গেছে জামালপুর জেলা  সদরসহ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, সরিষাবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আবাদ বিড়ি, বাদশা-২ বিড়ি,আজিম বিড়ি, জামাল বিড়ি, যমুনা বিড়ি, নবাব বিড়ি, পাখি বিড়ি, আফিজ বিড়ি, মিজান বিড়ি, সাথি বিড়ি, রাঙ্গা বিড়ি, আলম বিড়ি, স্বাধীন বিড়ি, সাইফ বিড়ি, কমল বিড়ি, রবি বিড়ি, আনার বিড়ি, বাদশা বিড়ি-১, ফ্রেস বিড়ি, রেড়িও বিড়ি, তার বিড়ি, যমুনা বিড়ি, রতনা বিড়ি, ময়না বিড়ি নামে প্রতিটি হাট বাজারে নকল ব্যান্ডরোল ও ব্যান্ডরোলবিহীন বিড়ি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করে আসছে।

এবিষয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির সেলিম জানান, প্রতিমাসে এসব অসাধু বিড়ি ব্যবসায়ী ও কোম্পানির কারণে জামালপুর থেকে প্রতিমাসে ৪ কোটি ও বছরে ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এসব কোম্পানি ক্রেতাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে বিড়ি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বাজারে নকল ও ভুয়া ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে ব্যবসা করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের সাথেও প্রতারণা করে আসছে।

জামালপুর সার্কেল ১ ও সার্কেল ২ এর বিভাগীয় দপ্তরের রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল কুদ্দুস জানান, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যেসকল নকল ব্যান্ডরোল ও ব্যান্ডরোলবিহীন বিড়ি কোম্পানি তাদের ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।