• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

ধানক্ষেতে পড়ে ছিল মেছো বাঘের ৬টি ছানা

  • প্রকাশিত ০৫:০৪ সন্ধ্যা নভেম্বর ২৪, ২০১৯
মেছো বাঘ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে ২৩ নভেম্বর ছয়টি মেছো বাঘের শাবক উদ্ধার করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউন

সোহেল শ্যাম বলেন, 'শাবকগুলো শুক্রবার রাত থেকে কিছু খায়নি'

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে ছয়টি মেছো বাঘের শাবক উদ্ধার করা হয়েছে।  

শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে থেকে ছানাগুলোকে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ।

বনবিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় শুক্রবার সকালে ধান কাটতে গিয়ে স্থানীয় কৃষকরা স্তুপ করা ধানের মধ্যে মেছো বাঘের ছয়টি বাচ্চা দেখতে পান। শুক্রবার রাতেই বনবিভাগকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেনের ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবক সোহেল শ্যাম, পিয়াস আহমেদ ও বন প্রহরী বুলবুল মিয়া কৃষক সামছুল ইসলামের বাড়ি থেকে মেছো বাঘের বাচ্চাদের উদ্ধার করেন।

জানা গেছে, বর্তমানে বাচ্চাগুলো সোহেল শ্যামের অধীনে তার শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগের বাসায় আছে। তার মাধ্যমে প্রাণীগুলোকে সুস্থ করে বনে অবমুক্ত করা হবে।

সোহেল শ্যাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "শাবকগুলো শুক্রবার রাত থেকে কিছু খায়নি। এদের বয়স গড়ে ২৫ দিন হবে। ড্রপার দিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে। মায়ের যত্ন ছাড়া এতো ছোট বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখা খুবই সতর্কতার এবং পরিশ্রমের।"

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন রবিবার (২৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "ওই গ্রামের এক কৃষক ধান কেটে স্তুপ করে রেখেছিলেন। সে স্তুপের মধ্যে বনবিড়ালের ছয়টি ছানা পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা, মা বনবিড়ালটি তার ছানাগুলোকে রেখে চলে গেছে।"

"মেছোবাঘের ছানাগুলো সোহেলের কাছে দিয়েছি কারণ, এই বয়সের বাচ্চাকে মাতৃস্নেহে সেবা দিতে হবে, নয়তো বাঁচানো যাবে না। চার থেকে পাঁচ মাসেই তারা সুস্থ এবং স্বাবলম্বী হয়ে যাবে। সুস্থ হলেই তাদেরকে লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করা হবে।"

মেছো বাঘ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এটা মূলত একধরনের বিড়াল (Fishing Cat) যাকে মেছো বাঘ বলা হয়। বাংলাদেশের সর্বত্রই এই প্রাণীটির বিচরণ রয়েছে। তবে জলাভূমি রয়েছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, ইঁদুর, পাখি ইত্যাদি খায়। তবে কখনো কখনো মুরগিও ধরতে পারে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।” 

তিনি আরো বলেন, “২০০৮ সালে মেছোবাঘকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছে আইইউসিএন। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত।”