• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ভাগ্নেকে নকল সরবরাহে বাধা দেওয়ায় পুলিশকে পেটালেন যুবলীগ নেতা

  • প্রকাশিত ১০:৩৫ রাত নভেম্বর ২৪, ২০১৯
যুবলীগ নেতা
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মোজাম্মেল হক অপু। সংগৃহীত

এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মোজাম্মেল হক অপুকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার কেন্দ্রে নকল সরবরাহে বাধা দেওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক অপুর বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন বাঞ্ছারামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী। ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতাকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব পারভীন আক্তার।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রবিবার গণিত বিষয়ের পরীক্ষা চলছিল। ওই পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন যুবলীগে নেতা অপুর ভাগ্নে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভাগ্নেকে নকল সরবরাহ করার জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা চালান ওই নেতা। এ সময় তাকে বাধা দেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা। ওই সময় পুলিশ সদস্য নজরুলকে দেখে নেওয়ার কথা বলে প্রস্থান করলেও কিছুক্ষণ পর ২০-৩০ জন লোক নিয়ে ফিরে আসেন যুবলীগ নেতা অপু। এসেই নজরুলকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করেন অপু ও তার অনুসারীরা। এক পর্যায়ে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত শিক্ষকরা এগিয়ে এসে ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে স্থানীয় একটি হাসপাতালে আহত সহকর্মী নজরুলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

আহত পুলিশ সদস্য নজরুল বলেন, "নকল সরবরাহে বাধা দেওয়ায় আমার উপর হামলা চালায় একদল লোক। এসময় তারা আমাকে কিল ঘুষি ও লাথি মারে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা এসে আমাকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে।"

ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার জানান, "আমি আমার কক্ষে বসেছিলাম। চিল্লাচিল্লি শুনে বাইরে গিয়ে দেখি অনেক লোকজন কেন্দ্রের ভিতর প্রবেশ করেছে। সেখানে এক পুলিশ সদস্যকে মারধোর করছে তারা। এ সময় তারা তিনটি খাতা ছিড়ে ফেলে। আমি এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা করেছি।"

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নৌসাদ মাহমুদ বলেন, "যুবলীগ নেতা অপুকে নকল সরবরাহে বাধা দেওয়ায় তিনি দলবল নিয়ে এসে পুলিশকে মারধর করে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।"

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ছলিমাবাদ পরীক্ষাকেন্দ্রে কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করতে বাধা দেওয়ায় আমাদের পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে অপু নামে এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত অপু যুবলীগের নেতা বলে জানতে পেরেছি। এই ঘটনায় কেন্দ্রেসচিব বাদী হয়ে একটি এজহার জমা দিয়েছেন। সেটি আজ বিকেলে মামলা হিসেবে নথিভূক্ত হয়েছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"