• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

ঢাকার বায়ুদূষণ অসহনীয়, জানালেন মন্ত্রী

  • প্রকাশিত ০৭:১৮ রাত নভেম্বর ২৫, ২০১৯
বায়ু দূষণ
বায়ু দূষণে বিপর্যস্ত রাজধানী ঢাকার জনজীবন। ছবি: মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের প্রধান উৎস তিনটি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, ঢাকা শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। সোমবার (২৫ নভেম্বর) পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকার বায়ু ও শব্দ দূষণ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার শুরুতে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা নগরীর বায়ুদূষণের বিভিন্ন কারণ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "কীভাবে জনগণকে বায়ুদূষণ থেকে মুক্ত করতে পারি সেজন্য এ সভা ডাকা হয়েছে।"

সরকারি-বেসরকারি অবকাঠমো ও বিভিন্ন কাজে সমন্বয় করা প্রয়োজন উল্লেখ করে শাহাব উদ্দিন বলেন, "ইউটিলিটি সার্ভিসের কাজের জন্য বিভিন্ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেস-হাইওয়েসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।"

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বলেন, "ঢাকা সিটি করপোরেশনের বায়ুদূষণের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণের সময় পানি ছিঁটানো, নির্মাণ সামগ্রী যত্রতত্র ফেলে না রাখা ও নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বেষ্টনির মধ্যে আছে কিনা সেটি দেখতে হবে।"

এ সমস্যা রোধে মূল দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন,  ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের উৎস নিয়ে চলতি বছরের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি উৎস হচ্ছে-ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও নির্মাণ কাজ। আট বছর ধরে এই তিন উৎস ক্রমেই বাড়ছে বলে জানান মন্ত্রী।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে দেখা যায়, ২০১৩ সালে দেশে ইটভাটার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৯৫। পরে ২০১৮ সালের পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে দেখা যায় দেশের ইটভাটার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৯০২টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮৭টি ইটভাটা ঢাকা বিভাগের মধ্যে গড়ে উঠেছে। 

ওই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মোট যানবাহনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৭। যা ২০১৮ সালে বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৪৷

মন্ত্রী আরও বলেন, ভবন ও অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ উন্মুক্তভাবে করার ফলে শহরের বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ বাড়ছে। ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পসমূহকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।