• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

এবার বাঁচার আকুতি জানিয়ে সৌদি থেকে হুসনার ভিডিওবার্তা

  • প্রকাশিত ০৯:১২ রাত নভেম্বর ২৫, ২০১৯
হুসনা হবিগঞ্জ
বাঁচার আকুতি জানিয়ে ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছেন সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হবিগঞ্জের হুসনা বেগম ঢাকা ট্রিবিউন

সৌদি আরবে গিয়েই বিপাকে পড়েন হুসনা। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও গৃহকর্তার নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি

মাত্র কয়েকদিন আগে সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন পঞ্চগড়ের সুমি আক্তার। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটিতে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়ে ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছেন আরেক নারী। 

ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হুসনা আক্তার (২৪) নামে ওই নারীর ভিডিওবার্তার আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

ভিডিও বার্তায় হুসনা বলেন, ‘‘আমি মোছা. হুসনা আক্তার। আমার দালালে ভালা কথা কইয়া আমারে পাঠাইছে সৌদি। নিজরাল (নাজরান) এলাকায় আমি কাজ করি। আমি আইসা দেখি ভালা না। ওরা আমার উপর অত্যাচার করে। আমি বাক্কা দিন (১০/১২ দিন) হইছে আছি। এখন এরার অত্যাচার আমি সহ্য করতে পারি না দেইক্কা কইছি আমি যাইমু গা। এই কথা বলায় ওরা আরও বেশি অত্যাচার করে। আমি এজেন্সির অফিসে ফোন দিছি। অফিসের এরা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমি আর পারতাছি না। তোমরা যেভাবে ভাবো পারো আমারে বাঁচাও। এরা আমারে বাংলাদেশ পাঠাইতো চায় না। এরা আমারে ইতা করতাছে। আমারে ভালা কামের (কাজের) কথা কইয়া পাঠাইছে দালালে। আমারে ইতা করতাছে ওরা। আমি আর পারতাছি না সহ্য করতাম। তোমরা যেভাবে পারো আমারে নেও।’’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের হুসনা আক্তার (২৪) আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে ২০ দিন আগে ‘‘আরব ওর্য়াল্ড ডিস্ট্রিবিউশন’’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান। সেখানে গৃহকর্তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রথমে স্বামী শফিউল্লাকে ভিডিও বার্তা পাঠান। স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয়টি ওই এজেন্সিকে জানালে তারা শফিউল্লার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। 

আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শফিউল্লা কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য ওই ভিডিও তার এক ভাইয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করান।  

হুসনার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের তিন মাসের মাথায় পরিবারে আর্থিক সহায়তা করার জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হুসনা। ২০ দিন আগে হবিগঞ্জের শাহিন নামে এক দালালের সহযোগিতায় ‘‘আরব ওর্য়াল্ড ডিস্ট্রিবিউশন’’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবে যান তিনি। এজেন্সি থেকে বলা হয়েছিল তাকে গৃহস্থালীয় কাজে পাঠানো হচ্ছে। বেতন ধরা হয়েছিল মাসিক ২২ হাজার টাকা। 

কিন্তু সেখানে গিয়েই বিপাকে পড়েন হুসনা। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও গৃহকর্তার নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন হবিগঞ্জের এই নারী।  

এক সপ্তাহের মাথায় নির্যাতনের বিষয়ে স্বামীকে জানান তিনি। স্বামী তাকে ফিরে আসার জন্য বললে হুসনা এজেন্সির সৌদি আরব অফিসে ফোন করেন। কিন্তু এজেন্সির লোকজন তাকে বাংলাদেশে পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করে তাকে গালিগালাজ করে। জানিয়ে দেওয়া হয়, ২ বছরের মধ্যে তাকে দেশে পাঠানো যাবে না।

এদিকে, হুসনার স্বামী শফিউল কোনো উপায় না দেখে স্থানীয় দালাল শাহিনকে সব জানিয়ে স্ত্রীকে দেশে ফেরত আনার জন্য বললে শাহিন তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে শফিউল ঢাকায় ‘‘আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশন’’-এর অফিসে সরাসরি গিয়ে কথা বললে তাকে জানানো হয়, ২ বছরের জন্য হুসনাকে পাঠানো হয়েছে। এই সময় শেষ না হলে আনা যাবে না। এর আগে দেশে আনতে হলে এজেন্সিকে ১ লাখ টাকা দিতে হবে।  

শফিউল্লাহ বলেন, “আমার স্ত্রী সৌদি যাওয়ার এক সপ্তাহ পরই আমাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানান। আমি তাকে ফিরে আসার জন্য বলি। কিন্তু এজেন্সির লোকজন তাকে আসতে দিচ্ছে না। ফোন করে নির্যাতনের কথা জানিয়ে দেশে ফেরার কথা বললে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে এজেন্সির লোকজন। আমার স্ত্রী জানিয়েছেন, এজেন্সিতে গেলে এজেন্সির লোকজন গায়ে হাত তোলে, নির্যাতন করে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে সৌদি পাঠানো ভুল হয়েছে।”

এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খন্দকার ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বিষয়টি শোনার পর তার স্বামীর সঙ্গে আলাপ করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। 

ওই নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সৌদির এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।