• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২০ রাত

কড়া অবস্থানে বিজিবি, তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না ‘অনুপ্রবেশ’

  • প্রকাশিত ০৮:১০ রাত নভেম্বর ২৬, ২০১৯
ঝিনাইদহ
সম্প্রতি ভারত থেকে অনুপ্রবেশ করার সময় ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে আটক হন কয়েকজন। ঢাকা ট্রিবিউন ঢাকা ট্রিবিউন

সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি কড়া অবস্থানে থাকলেও অনুপ্রবেশ কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশ অনুপ্রবেশের সংখ্যা বেড়েই চলছে। মহেশপুরের জলুলী, পলিয়ানপুর, খোসালপুর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে প্রতিদিনই ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে অসংখ্য নারী-পুরুষ-শিশু। অনুপ্রবেশের বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি কড়া অবস্থানে থাকলেও অনুপ্রবেশ কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না।  

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিজিবি ২৫৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের পাসপোর্ট অধ্যাদেশ আইনে মামলা করে জেল-হাজতেও পাঠিয়েছেন। তবে বিজিবি ও পুলিশের দাবি আটকরা বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের বেশিরভাগের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে। তারা কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারত গিয়ে আবার অবৈধভাবেই ফিরে আসছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারতীয় নাগরিকত্ব না পাওয়া ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে হঠাৎ করে মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসছে তারা। 

সীমান্তবর্তী কাঞ্চনপুর গ্রামের যুবক আহসান হাবিব বলেন, এই এলাকা দিয়ে মানুষ প্রতিদিনই অবৈধভাবে যাওয়া-আসা করে। স্থানীয় ভাষায় তাদের “ধুড় পাচার” বলে। ছোটবেলা থেকে আমরা এমনটা দেখে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করেই পাচারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। 

জজুলী সীমান্তবর্তী যাবদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম শহীদুল ইসলাম বলেন, যারা এদেশে আসছে তারা ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লিতে কাজ করতে যেতো। তাদের অনেকেই বাংলাদেশি। অনেকে পাকিস্তান আমলেও গেছেন। এদের কেউ কেউ আসামের এনআরসিতে নাম না ওঠায় ফিরে আসছেন। 

তিনি আরও বলেন, “মহেশপুরের ৬টি সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। সীমান্ত রেখার কোদলা নদীতে পানি না থাকায় ভারতীয় ও বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন।”

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুজন সরকার বলেন, “অবৈধভাবে যারা আসছে বিজিবি তাদের আটক করে পুলিশে দিচ্ছে। প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আইন-শৃংখলা সভায় অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কমিটি গঠনের সহযোগিতা চেয়েছেন।”

আটককৃতরা অনুপ্রবেশকারী কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।”

মহেশপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) রাশেদুল আলম বলেন, “আটকদের কেউ অনুপ্রবেশকারী নয়। তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা ভারতে কাজকর্ম করতো। হয়তো ভারতীয় চাপে এখন তারা চলে আসছে। আজও (২৬ নভেম্বর) ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুর বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের পাসপোর্ট অধ্যাদেশ আইনে মামলা হয়েছে। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।”

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি অতিরিক্ত পরিচালক (উপ-অধিনায়ক) কামরুল হাসান বলেন, “চলতি মাসে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের সবাই মুসলিম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, তারা অবৈধভাবে গিয়ে আবার অবৈধভাবেই ফিরে আসছে।”

হঠাৎ অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা নিয়ে ইদানিং সব জায়গাতে আলোচনা হচ্ছে। ভারতে এনআরসি করছে, তাই অতি উৎসাহী পুলিশ ও বিএসএফ এদের আগে থেকেই নানা হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এখন তারা ভয়ে আস্তে আস্তে দেশে ফেরার চেষ্টা করছে। তবে সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”