• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

পুলিশ দেখেই তক্ষকভর্তি ব্যাগ ফেলে দৌড়!

  • প্রকাশিত ১০:১৭ রাত নভেম্বর ২৬, ২০১৯
তক্ষক
মঙ্গলবার বিকেলে তক্ষক তিনটিকে রাজধানীর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়। সৌজন্য

তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগের মধ্যে কি রয়েছে, তা জানতে চান পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ব্যাগ ফেলে দৌড় দেন ওই দুই ব্যক্তি

দুই ব্যক্তি বাসে করে আসছিলেন বান্দরবান থেকে, নামিয়ে দেওয়ার কথা ছিল নারায়ণগঞ্জ। কিন্তু বাসের কন্ডাক্টর সেটি ভুলে তাদেরকে নিয়ে যান যাত্রাবাড়ি। তাই নিয়েই ঝগড়ার সূত্রপাত। রাস্তার মধ্যে বাস থামিয়ে ঝগড়া দেখে এগিয়ে যান এক পুলিশ কর্মকর্তা, ঘটনা জানতে চান তিনি। কিন্তু পুলিশকে দেখেই ঘাবড়ে যান ওই দুই ব্যক্তি। সন্দেহ হয় পুলিশের। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগের মধ্যে কি রয়েছে, তা জানতে চান পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ব্যাগ ফেলে দৌড় দেন ওই দুই ব্যক্তি!

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ির গোলাপবাগ মোড় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধারের পর ব্যাগটিতে তিনটি তক্ষক দেখতে পান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। 


আরও পড়ুন - ধানক্ষেতে পড়ে ছিল মেছো বাঘের ৬টি ছানা


খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা ও জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট আব্দুল মালেক ঘটনাস্থলে ছুটে যান, উদ্ধার করেন তক্ষক তিনটিকে। 

নার্গিস সুলতানা বলেন, “তক্ষক আটক করার খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে তক্ষক তিনটিকে উদ্ধার করি। তবে পাচারের ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।”

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির গোলাপবাগ মোড় ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে তক্ষক তিনটিকে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। সৌজন্য ছবি

তিনি আরো বলেন, “ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের পরিচালক জহির আকন স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিকেলে তক্ষক তিনটিকে মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।”


আরও পড়ুন - মৌলভীবাজারে ‘আদালত’ বসিয়ে বানর হত্যা!


তক্ষক সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “তক্ষক (Gecko) গিরগিটি প্রজাতির র্নিবিষ নিরীহ বন্যপ্রাণী। সাধারণত পুরাতন বাড়ির ইটের দেয়াল, ফাঁক-ফোকড় ও বয়স্ক গাছে এরা বাস করে। কীটপতঙ্গ, টিকটিকি, ছোট পাখি ও ছোট সাপের বাচ্চা খায়। আইইউসিএন এর লাল তালিকা অনুযায়ী এটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী।”

তিনি আরো বলেন, “তক্ষকের দাম ও তক্ষক দিয়ে তৈরি ওষুধ নিয়ে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে। আর গুজবে বিশ্বাস করে এক শ্রেণির লোকেরা রাতারাতি ধনী হবার স্বপ্নে তক্ষক শিকারে নেমেছে। মূলত ব্যাপক নিধনই তক্ষক বিলুপ্তির প্রধান কারণ। তক্ষক দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ওষুধের উপকারীতা নিয়ে সেসব শোনা যায়, বৈজ্ঞানিকভাবে তার কোনো ভিত্তি নেই। তারপরও এই গুজবটির কারণেই প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।”


আরও পড়ুন - বগুড়ায় পাঁচটি তক্ষক উদ্ধার, যুবলীগ সভাপতির ছেলেসহ গ্রেফতার ৩