• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ক্লিনিক থেকে নবজাতক চুরি: বেরিয়ে এলো আসল রহস্য

  • প্রকাশিত ১১:২৩ রাত নভেম্বর ২৬, ২০১৯
নবজাতক
প্রতীকী ছবি

মেরী স্টোপস কর্তৃপক্ষের ধারণা, যেহেতু আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ইয়াসমিনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে, তাই নবজাতক চুরির প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে


গত ১৩ নভেম্বর নরসিংদীর মেরিস্টোপস ক্লিনিক থেকে তিনদিন বয়সী নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নবজাতকের পরিবার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছিল। এ বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান করে মেরী স্টোপস বাংলাদেশ।

মেরিস্টোপস কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১০ নভেম্বর সকাল সাড়ে সাতটায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেন সখিনা বেগম নামে এক নারী। এ সময় ওই নারীর সাথে ছিলেন তার মা। প্রসূতি ও নবজাতক সুস্থ থাকায়, ক্লিনিকের নিয়ম অনুযায়ী ১৩ নভেম্বর তাদের হাসপাতাল ত্যাগ করার কথা। হাসপাতালের বিল বাবদ ১৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, তারা তা দিতে অপারগতা জানান। সেদিনই দুপুর দেড়টার দিকে তার চাচাতো বোন ক্লিনিকে আসেন প্রসূতি ও নবজাতকের দেখভালের জন্য। তার কিছুক্ষণ আগে ওই নারীর মা বাড়ি চলে যান। 

তারপর থেকেই ওই চাচাতো বোন প্রসূতি ও নবজাতককে বিভিন্ন সহায়তা করে আসছিলেন। কিন্তু বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দায়িত্বরত ডাক্তার বা নার্স কাউকে কিছু না জানিয়ে জিনিসপত্র গুছিয়ে হিসাবরক্ষকের কাছে ২ হাজার টাকা তারা হাসপাতাল ত্যাগ করতে চান। 

তবে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে তাদের জানানো হয়, দুই হাজার টাকা ক্লিনিকের প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম। তারপরও তাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় মেরী স্টোপসের ওয়েভার পলিসি অনুযায়ী আরো কমিয়ে বিল করা হবে। এতে তারা সম্মতি জানায়। এর ১০ মিনিট পর সখিনা বেগমের চাচাতো বোন নিচে গিয়ে জানান, বাচ্চা জ্বরে ভুগছে ও ডাক্তার বাচ্চাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছেন। 


আরও পড়ুন - হাসপাতালের বিল দিতে না পারায় নবজাতক চুরির অভিযোগ


কিন্তু কিছুক্ষণ পরে জানা যায়, শিশুটিকে বাইরে নেওয়ার বিষয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার কোনো নির্দেশনাই দেননি। বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে দেখা যায়, নবজাতক, প্রসূতি ও তার চাচাতো বোন কেউই ক্লিনিকে নেই। তবে বাচ্চার খোঁজ না পাওয়া গেলেও বেলা সাড়ে ৪টার দিকে প্রসূতির মা ও ভাবী টাকা নিয়ে আসেন এবং মেরী স্টোপস বাংলাদেশের ওয়েভার পলিসি অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা জমা দেয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে তারা ডিসচার্জ নিয়ে ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে যায়।

এরপর আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রোগী তার বেশ কয়েকজন আত্মীয়কে নিয়ে মেরী স্টোপস ক্লিনিকে আসেন এবং অভিযোগ করেন, তাদের বাচ্চা ক্লিনিক থেকে চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিকও ঘটনাস্থলে আসেন ও ঘটনা জানতে চান। রাত সোয়া ১০টার দিকে নংরসিংদী মডেল থানা থেকে পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা ক্লিনিকের স্টাফ, ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজন এবং অভিযোগকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় অভিযোগকারীরা থানায় মামলা করবে কিনা জানতে চাইলে তারা অস্বীকৃতি জানায়। এরপর নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পরামর্শ অনুযায়ী মেরী স্টোপস কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রসূতি নারী ও তার স্বজনদের নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

ঘটনার ৫ দিন পর ১৮ নভেম্বর রাতে নরসিংদী রেল স্টেশন থেকে নবজাতকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ইয়াসমিন (২৬) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াসমিন স্বীকার করেন, তিনি সখিনার চাচাতো বোন। প্রকৃতপক্ষে এই নারীই হাসপাতালে প্রসূতিকে দেখাশোনা করছিলেন। মেরী স্টোপস ক্লিনিকের সামনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সিসি ক্যামেরা ফুটেজেও তাকে (ইয়াসমিন) নবজাতককে কোলে নিয়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। 

মেরী স্টোপস কর্তৃপক্ষের ধারণা, যেহেতু আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ইয়াসমিনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে, তাই নবজাতক চুরির প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সাল থেকে পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভবতী নারী ও শিশু সেবা, টিকাদান ইত্যাদি স্বাস্থ্যসেবা দেশের দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাবার জন্য কাজ করছে মেরী স্টোপস বাংলাদেশ।