• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৮ রাত

মুন্সীগঞ্জে আবারও ধরা পড়েছে ভয়ংকর বিষধর ‘রাসেলস ভাইপার’

  • প্রকাশিত ০৬:৫৮ সন্ধ্যা নভেম্বর ২৭, ২০১৯
রাসেল ভাইপার/মুন্সীগঞ্জ
ইদুর ধরার যন্ত্রে আটক রাসেল ভাইপার। সৌজন্য

আক্রমণের ক্ষিপ্র গতি ও বিষের তীব্রতার কারণে ‘কিলিংমেশিন’ হিসেবে বদনাম রয়েছে সাপটির

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকা থেকে আবারও ভয়ংকর বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ আটক করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) লৌহজংয়ের বেজগাঁও ইউনিয়নের বেজগাঁও গ্রাম থেকে সাপটিকে আটক করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল লৌহজংয়ের ঘোড়াদৌড় বাজারের গৌতম কুমার সাহার বাড়ি থেকে একটি রাসেলস ভাইপার উদ্ধার করা হয়েছিল। 

স্থানীয়রা জানান, বেজগাঁও কবরস্থান মাদ্রাসা মসজিদের পাশে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভরাটের কাজ চলছিল। এর পাশেই একটি চায়ের দোকানের লোকজন ভরাটকৃত বালুর মধ্যে সাপটিকে দেখতে পান। স্থানীয়রা এটিকে অজগর সাপ ভেবে চায়ের দোকানে থাকা একটি ইদুর ধরার যন্ত্রের মধ্যে কৌশলে সাপটিকে আটকে ফেলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লৌহজং জোনাল অফিসের এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর মো. নূর ই আলম টিটু। তিনি সাপটিকে রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ সময় লোকজন সাপটিকে মেরে ফেলতে চাইলে তিনি (নূর ই আলম) তাদের বুঝিয়ে সেটিকে না মেরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করেন। এ সময় চা দোকানি সাপটিকে রক্ষার পক্ষে মত দিয়ে সেটিকে নিজের রাখতে রাজী হন। এরইমধ্যে নূর ই আলম বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট, সাপ উদ্ধারকারী ফেসবুক গ্রুপ “ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ অর্গানাইজেশন” এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।


আরও পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে ‘বাঘের’ ঘোরাফেরা, আসল রহস্য কী?


এ বিষয়ে নূর ই আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সাপটি আকারে বেশ বড় ও স্বাস্থ্যবান। মূলত বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই এটি রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।” 

তিনি জানান, স্থানীয়রা সাপটিকে মেরে ফেলতে পারে এমন খবরে তিনি (নূর ই আলম) ও তার সহকর্মী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লৌহজং জোনাল অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম রাজু আবারও চায়ের দোকানির কাছে ছুটে যান। এ সময় দোকানি স্থানীয়দের হাত থেকে সাপটিকে বাঁচাতে সেটিকে নূর ই আলম ও আব্দুর রহিম রাজুর হাতে তুলে দেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্মতি নিয়ে সাপটিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে রাখেন নূর ই আলম।

নূর আলম বলেন, “বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে। তারা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) লৌহজং আসবেন। চায়ের দোকানির মাধ্যমে সাপটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

স্থানীয়দের অনেকেই সাপটিকে মেরে ফেলতে চাপ সৃষ্টি করছেন। সৌজন্য ছবি

এ বিষয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানার সঙ্গে। তিনি বলেন,“ রাসেলস ভাইপার আটকের খবর পেয়েছি। উদ্ধারকারী নূর ই আলমের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমাদের একটি দল আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সাপটি উদ্ধার করতে সেখানে যাবে। এ সময় সাপ বিষয়ে সেখানে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানও করা হবে।”

সাপটি ভেনম সেন্টারের পাঠানো হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নার্গিস সুলতানা আরও বলেন, “সাপটি আহত কিনা সেটি এখনো আমরা কিছু জানি না। ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” 


আরও পড়ুন - পুলিশ দেখেই তক্ষকভর্তি ব্যাগ ফেলে দৌড়!


রাসেলস ভাইপার সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “রাসেলস ভাইপার বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। অন্যান্য সাপ মানুষকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও এ সাপটি স্বভাব ঠিক তার উল্টো। তাই প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কেবল এ সাপটির কামড়েই প্রাণ হারান। আক্রমণের ক্ষিপ্র গতি ও বিষের তীব্রতার কারণে ‘কিলিংমেশিন’ হিসেবে বদনাম রয়েছে সাপটির।”

জোহরা মিলা বলেন, “তীব্রতার দিক দিয়ে সাপটি বিশ্বের ৫ নম্বর ভয়ংকর বিষধর সাপ। কিন্তু মাত্র ১ সেকেন্ডের ১৬ ভাগের ১ ভাগ সময়ে কাউকে কামড়ে বিষ ঢালতে পারে সাপটি! তাই কামড়ের ক্ষিপ্রগতির দিক দিয়ে সব সাপকে হারিয়ে রাসেলস ভাইপার পৃথিবীর প্রথম স্থান দখল করেছে। তাছাড়া এ সাপটির বিষ দাঁত বিশ্বে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ। এ সাপের কোনো অ্যান্টিভেনম বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। বলা যায়, এর এক ছোবলেই মৃত্যু নিশ্চিত। কারণ রাসেলস ভাইপারে কামড়েছে অথচ বেঁচে গেছেন এমন উদাহরণ নেই বললেই চলে। আবার কেউ ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও এই সাপের বিষ ‘হেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পঁচেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাই সাপটির কবল থেকে বাঁচতে সচেতনতাই একমাত্র পথ।”


আরও পড়ুন - মৌলভীবাজারে ‘আদালত’ বসিয়ে বানর হত্যা!