• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

রেল লাইনের ওপর বাজার, চালকের সতর্কতায় রক্ষা পেলো বহুপ্রাণ

  • প্রকাশিত ০৮:৪৯ রাত নভেম্বর ২৭, ২০১৯
ট্রেন
চালকের সতর্কতায় রক্ষা পায় ‘হঠাৎ মার্কেটের’ লোকজন। ঢাকা ট্রিবিউন

ট্রেন এলে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য সরিয়ে নেন, চলে গেলে আবারও মার্কেট বসান। এ জন্য স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন ‘হঠাৎ মার্কেট’

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেল লাইনের ওপর কাপড়, কাঁচাবাজার, প্রসাধনী ইত্যাদি পণ্যের বাজার বসা নৈমত্তিক ঘটনা। অস্থায়ী এসব বাজার যেমন দ্রুত বসে আবার ট্রেন আসার আগ মুহুর্তেই সেটা সরিয়েও নেয় ব্যবসায়ীরা। তবে মাঝেমধ্যেই এই বাজারের কারণে প্রাণহানিও ঘটে। রেলের পক্ষ থেকে বাজারটি মাঝে মাঝে উচ্ছেদ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা আবারও বসে।

প্রতিদিনের মতোই বুধবারও (২৭ নভেম্বর) দুপুরে রেল লাইনের ওপরেই বসেছিল বাজারটি। এ সময় ট্রেন এলেও টের পায়নি ব্যবসায়ী বা ক্রেতারা। কিন্তু চালকের সতর্কতায় বেঁচে গেছে অসংখ্য প্রাণ। যদিও আহত হয়েছেন  নারীসহ অন্তত ৫ জন, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানের মালামাল।

বগুড়া স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির উপ পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আক্তারুন্নাহার লিপি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, বগুড়া স্টেশনের পূর্ব পাশে এক নম্বর ঘুমটি পর্যন্ত রেল লাইনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে তিন শতাধিক দোকান বসে। ট্রেন এলে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য সরিয়ে নেন, ট্রেন চলে গেলে আবারও মার্কেট বসান। এ জন্য স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন “হঠাৎ মার্কেট”। সাধারণত নিন্ম আয়ের মানুষেরাই এখানে কেনাকাটা করে থাকেন। রেল বিভাগ গত ১৯

নভেম্বর অভিযান চালিয়ে ওই মার্কেট উচ্ছেদ করলেও দু’দিন পর সেটি আবার বসে। ট্রেনে কাটা পড়ে এই বাজারে বেশ কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

বগুড়ার রেল স্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্রসিংয়ের প্রয়োজনে ঢাকা ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী আন্তঃনগর লালমনি এক্সপ্রেস বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে থামে। এ সময় দিনাজপুর ছেড়ে আসা সান্তাহারগামী চোলনচাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন আসলে সিগন্যাল পয়েন্ট ঠিক করে ২ নম্বর লুপ লাইনে যাবার নির্দেশনা দেওয়া হয়। “হঠাৎ মার্কেট” এর ব্যবসায়ীরা জানেন ট্রেন ১ নম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা ওই লাইন থেকে মালামাল সরিয়ে নেন। কিন্তু দোলনচাঁপা ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে ২ নম্বর লাইন দিয়ে আসতে থাকে। টের পেয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল ফেলে দৌড়ে

পালাতে থাকেন। ট্রেন চালক ঘটনাটি টের পেয়ে ট্রেনের ব্রেক চাপেন। এতে ট্রেনের গতি কমে গেলেও দ্রুত সরে যেতে না পারায় ৩ নারী আহত হন। এ ছাড়া লাইনের ওপর থাকা ব্যবসায়ীদের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।

স্টেশন মাস্টার বলেন, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গায় সবসময় ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও কেউ মানেন না। সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারণে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা

সম্ভব হয় না। অথচ ট্রেন চলাচলের মূল বিষয়টি সিগন্যাল ও পয়েন্টের ওপর নির্ভর করে।

বগুড়া স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারি শাহীন আলম অভিযোগ করে বলেন, “রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারি পরিদর্শক রায়হান কবিরের কারণেই লাইনের ওপর ‘হঠাৎ মার্কেট’ গড়ে উঠেছে। তিনি কোনো ব্যবস্থা না দিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্য গড়ে তুলেছেন।”

তবে রায়হান কবির অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, “লাইনের ওপর মার্কেট বসার বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।”

বগুড়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এএসআই) আকতারুন্নাহার লিপি বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ওই ঘটনায় গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০), দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫) ছাড়াও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা প্রত্যেকেই বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”