• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩০ দুপুর

মুন্সীগঞ্জের ‘রাসেলস ভাইপার’ বন বিভাগের হাতে

  • প্রকাশিত ০৫:৫৯ সন্ধ্যা নভেম্বর ২৮, ২০১৯
মুন্সীগঞ্জ
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাপটি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউন

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাপটি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে আটককৃত বিষধর রাসেলস ভাইপারকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা। 

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিকের কাছে অক্ষত অবস্হায় সাপটি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ সামাজিক বনায়ন, নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু তাহের।

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) লৌহজংয়ের বেজগাঁও ইউনিয়নের বেজগাঁও গ্রাম থেকে সাপটিকে আটক করা হয়।


আরও পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে আবারও ধরা পড়েছে ভয়ংকর বিষধর ‘রাসেলস ভাইপার’


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেজগাঁও কবরস্থান মাদ্রাসা মসজিদের পাশে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভরাটের কাজ চলছিল। এর পাশেই একটি চায়ের দোকানের লোকজন ভরাটকৃত বালুর মধ্যে সাপটিকে দেখতে পান। স্থানীয়রা এটিকে অজগর সাপ ভেবে চায়ের দোকানে থাকা একটি ইদুর ধরার যন্ত্রের মধ্যে কৌশলে সাপটিকে আটকে ফেলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লৌহজং জোনাল অফিসের এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর মো. নূর ই আলম টিটু। তিনি সাপটিকে রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ সময় লোকজন সাপটিকে মেরে ফেলতে চাইলে তিনি (নূর ই আলম) তাদের বুঝিয়ে সেটিকে না মেরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করেন। এ সময় চায়ের দোকানদার উজ্জল সাপটিকে রক্ষার পক্ষে মত দিয়ে সেটিকে নিজের রাখতে রাজী হন। এরইমধ্যে নূর ই আলম বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট, সাপ উদ্ধারকারী ফেসবুক গ্রুপ “ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ অর্গানাইজেশন” এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।


আরও পড়ুন - রাজশাহীর পুকুর থেকে কুমির উদ্ধার!


স্থানীয়রা জানান, স্থানীয়রা সাপটিকে মেরে ফেলতে পারে এমন খবরে তিনি (নূর ই আলম) ও তার সহকর্মী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লৌহজং জোনাল অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম রাজু আবারও চায়ের দোকানি উজ্জলের কাছে ছুটে যান। এ সময় উজ্জল স্থানীয়দের হাত থেকে সাপটিকে বাঁচাতে সেটিকে নূর ই আলম ও আব্দুর রহিম রাজুর হাতে তুলে দেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্মতি নিয়ে সাপটিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে রাখেন নূর ই আলম।

মুন্সীগঞ্জ সামাজিক বনায়ন, নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু তাহের বলেন, “বিষধর সাপটি স্থানীয়দের কাছ থেকে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কর্মকর্তারা ঢাকায় নিয়ে গেছে। সাপটিকে কোথায় অবমুক্ত করা হবে তা এখনও বলতে পারছি না।”

নূর ই আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সাপটি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সাপটি উদ্ধারে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল মুন্সীগঞ্জ গিয়েছিল। তবে আমি ঢাকার বাইরে থাকায় এ বিষয়ে সর্বশেষ খবর দিতে পারছি না।”


আরও পড়ুন - প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে খাঁচার পাখি অবমুক্ত করে সমালোচনায় মেয়র খোকন