• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১ রাত

পাচারকালে আবারও বনরুই উদ্ধার!

  • প্রকাশিত ০৭:৫৩ রাত নভেম্বর ২৮, ২০১৯
কুড়িগ্রাম/বনরুই
ভূরুঙ্গামারীর ময়নাতলা এলাকা থেকে মহাবিপন্ন বনরুইটি উদ্ধারকরা হয়। সংগৃহীত

চলতি বছরের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত শুধু কুড়িগ্রাম থেকে চারটি বনরুই উদ্ধার করা হলো

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা থেকে একটি বিরল প্রজাতির বনরুই উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের ময়নাতলা এলাকার শহিদুল ইসলামের সুপারি বাগান থেকে বনরুইটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় বনরুইটি রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবীর বলেন, “পাচারের উদ্দেশে এ প্রাণীটি আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বনবিভাগের কাছে বনরুইটি হস্তান্তর করা হয়েছে।”

তবে বনরুই পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি বলেও জানান ওসি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি নিজেই বন্যপ্রাণী ইউনিটের কর্মকর্তাদের নিয়ে বনরুইটি উদ্ধার অভিযানে কুড়িগ্রাম গিয়েছিলেন।


আরও পড়ুন - কুড়িগ্রাম থেকে আবারও মহাবিপন্ন বনরুই উদ্ধার


তিনি জানান, উদ্ধারকৃত প্রাণীটি চায়না বনরুই (Chinese pangolin)। প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম (Manis crassicaudata)। এটি বাংলাদেশে মহাবিপন্ন (critically endangered) বন্যপ্রাণী।

জহির উদ্দিন আকন বলেন, “বনরুইটি ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। এটি নিয়ে আমরা ঢাকার পথে রয়েছি। ঢাকায় গিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ধারণা, দীর্ঘ দিন ধরেই এক বা একাধিক চক্র কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকাকে বনরুই পাচারের রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর আগে গত ২৩ মে কচাকাটা থানার বলদিয়া থেকে, ৮ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরীর হাসেমবাজার থেকে এবং সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর কাশেম বাজার এলাকা একটি করে মোট ৩টি বনরুই উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বনরুইই পাচারকালে উদ্ধার করা হয়।


আরও পড়ুন - বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে? 


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান জানান, দেখতে সরীসৃপ গোত্রভুক্ত প্রাণীর মতো মনে হলেও এরা আসলে স্তন্যপায়ী। পার্বত্য এলাকায় এরা ‘পাতালপুরীর মাছ’ হিসেবেও পরিচিত। মূলত শরীরজুড়ে রুই মাছের মতো আঁশ থাকায় এর নাম হয়েছে বনরুই। পিঁপড়াভুক এই প্রাণীটি বাংলাদেশে মহাবিপন্ন অবস্থায় আছে। দেশের পূর্ব ও উত্তরের জেলা পত্রঝরা শালবন বা মিশ্র-চিরসবুজ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গে অল্পসংখ্যক বনরুই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে বনরুই শুধুই যে পাচার হচ্ছে তা নয় বরং, বিভিন্ন লোকজ ওষুধ ও টোটকা তৈরিতে দেশের অভ্যন্তরেও বনরুই হত্যা করা হচ্ছে বলে জানান অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান।

তিনি বলেন, “ভণ্ড কবিরাজ, ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনেকেই প্রাণীটির অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে। বনরুইয়ের দেহ দিয়ে তৈরি করা ওষুধের বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই। এগুলো আসলে অপচিকিৎসা এবং অসচেতন মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি কৌশল।”


আরও পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে আবারও ধরা পড়েছে ভয়ংকর বিষধর ‘রাসেলস ভাইপার’